আইনি জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনির্বাচিত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ ও সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে তাঁকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শপথ গ্রহণ শেষে প্রথা অনুযায়ী তিনি সংসদ সদস্য বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাঁকে অভিনন্দন জানান।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি
ফটিকছড়ির এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবনে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন:
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
- অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
- ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
এছাড়াও সরকারের মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য, জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ এবং বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থেকে নতুন এই সংসদ সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান।
হাইকোর্টের সবুজ সংকেত ও নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারি
আজকের এই শপথ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত নাটকীয় ও দ্রুতগতির। এর আগে আজ সকালেই মহামান্য হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক আদেশে চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা সম্পূর্ণ বৈধ ও আইনি ভিত্তিসম্পন্ন ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে।
দুপুরের দিকে নির্বাচন কমিশনের প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব (চলতি দায়িত্ব) এ এস এম ইকবাল হাসানের স্বাক্ষরিত এক জরুরি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে ঘোষণা করে সরকারি অতিরিক্ত গেজেট (Bangladesh Gazette) প্রকাশ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭৯ চট্টগ্রাম-২ আসনে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম ও পূর্ণ ঠিকানা সংবলিত প্রজ্ঞাপন আজই ৯ জুলাই বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় মুদ্রণ করা হয়েছে। গেজেট প্রকাশের সাথে সাথেই চিঠির অনুলিপি দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি সরকারি দফতরে পাঠানো হয়; যার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) অন্যতম। প্রজ্ঞাপন জারির মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সন্ধ্যায় তিনি সংসদে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই ঐতিহাসিক শপথ নেন।


















