দেশে হঠাৎ করেই হামের (Measles) সংক্রমণ ও মৃত্যুহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। আজ শনিবার (১১ এপ্রিল, ২০২৬) বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষ্যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এই পরিস্থিতির জন্য গত চার বছরের টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা স্থবিরতাকে দায়ী করেন।
বর্তমান পরিস্থিতি এবং সরকারের নেওয়া জরুরি পদক্ষেপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. টিকাদান কর্মসূচির নতুন সময়সূচি
হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার দ্রুত বড় পরিসরে টিকাদান শুরু করছে:
- আগামীকাল (১২ এপ্রিল): ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
- ২০ এপ্রিল: সারা দেশে একযোগে শুরু হবে এই বিশেষ টিকা কার্যক্রম।
- লক্ষ্যমাত্রা: ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এই টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।
২. বর্তমান পরিস্থিতির পরিসংখ্যান (ভয়াবহ চিত্র)
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে হামের প্রকোপ চরমে পৌঁছেছে:
- ২৪ ঘণ্টার তথ্য (৯-১০ এপ্রিল): এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,১৭৭ শিশু এবং শনাক্ত হয়েছে ১৬৮ জনের।
- সামগ্রিক চিত্র (১৫ মার্চ থেকে বর্তমান): এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে ২৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ২,৪০৯ এবং সন্দেহজনক রোগী প্রায় ৯ হাজার।
৩. স্বাস্থ্য সচিব ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ
স্বাস্থ্য সচিব নিশ্চিত করেছেন যে, দেশে বর্তমানে টিকার কোনো সংকট নেই। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
- অসুস্থ শিশুদের টিকা নয়: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, শিশু যদি বর্তমানে জ্বরে আক্রান্ত থাকে বা হাসপাতালে ভর্তি থাকে, তবে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাকে টিকা দেওয়া যাবে না।
- আগে টিকা নেওয়া থাকলেও কার্যকর: এমনকি কোনো শিশুর আগে হামের টিকা নেওয়া থাকলেও, বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে তাকে পুনরায় টিকা দেওয়া যাবে।
- ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা: ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় ইতিমধ্যে জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে।
৪. কেন এই প্রাদুর্ভাব?
স্বাস্থ্য সচিবের মতে, গত ৪ বছরে কোভিড পরবর্তী পরিস্থিতি বা অন্যান্য কারণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ‘ছেদ’ পড়েছিল। এর ফলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এখন এই ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
পিতামাতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা তাদের শিশুদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যান। লক্ষণ দেখা দিলে (যেমন- তীব্র জ্বর ও শরীরে লালচে দানা) দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



















