নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল ও সংশ্লিষ্ট আবেদনের ওপর আজ বৃহস্পতিবার রায় দেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ রায়ের মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব মিলবে—তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কি আবার ফিরবে, ফিরলে কোন প্রক্রিয়ায় এবং কবে থেকে কার্যকর হবে।
গত ১১ নভেম্বর শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির বেঞ্চ। আজকের কার্যতালিকার ১ ও ২ নম্বর ক্রমিকে আপিল ও আবেদন দুটিই রাখা হয়েছে।
সম্ভাব্য রায়ের প্রভাব
রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের প্রত্যাশা—চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ খুলে দিতে পারে আজকের রায়। এমন হলে পরবর্তী নির্বাচন থেকে কার্যকর হতে পারে কাঙ্ক্ষিত এই ব্যবস্থা।
পূর্বের রায় ও বিতর্ক
২০১১ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে ত্রয়োদশ সংশোধনী আইনকে অগণতান্ত্রিক ও সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বিরোধী ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। রায়ে উল্লেখ ছিল—প্রয়োজনে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে।
কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায় থেকে এই পর্যবেক্ষণ বাদ দেওয়া হয়—যা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং রায় পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে।
এই পূর্ণাঙ্গ রায়কে ব্যবহার করেই দলীয় সরকারের অধীনে টানা তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন করেন সাবেক স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা—যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।
আজকের রায়ের মাধ্যমে দেশ আবারও দেখতে পারে সংবিধান ও নির্বাচনব্যবস্থার এক নতুন অধ্যায়।



















