দীর্ঘদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল, ২০২৬) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ইরানের স্ট্র্যাটেজিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস-এর প্রধান এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খারাজি। গত সপ্তাহে সস্ত্রীক এক ভয়াবহ বিমান হামলার শিকার হয়েছিলেন তিনি, যাতে তাঁর স্ত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও কামাল খারাজির মৃত্যুর গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো:
১. হামলার প্রেক্ষাপট ও মৃত্যু
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’ এবং আল-জাজিরার তথ্যমতে:
- ঘটনা: কামাল খারাজি গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার শিকার হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
- বিপর্যয়: ইরানের ভূখণ্ডে টানা ৩৯ দিনের অব্যাহত বিমান হামলায় দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোতে চরম ধস নেমেছে।
২. শীর্ষ নেতৃত্বের শূন্যতা
কামাল খারাজির মৃত্যু ইরানের জন্য কেবল একজন ব্যক্তির বিদায় নয়, বরং এটি তেহরানের পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় স্তম্ভের পতন। সাম্প্রতিক এই হামলায় আরও যারা প্রাণ হারিয়েছেন:
- শীর্ষ নেতৃত্ব: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৬ জন শীর্ষ প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুর খবর ইতিমধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
- দাবি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, তাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো ‘প্রিসিশন অ্যাটাক’-এ ইরানের ৫০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ কমান্ডার ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন।
৩. কামাল খারাজির কূটনৈতিক গুরুত্ব
কামাল খারাজি ছিলেন ইরানের শাসনব্যবস্থার অন্যতম ‘মস্তিষ্ক’। ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি পশ্চিমাদের সঙ্গে সুকৌশলে সম্পর্ক বজায় রাখতেন। পরবর্তী সময়ে স্ট্র্যাটেজিক কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে তিনি সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর মৃত্যুতে ইরান বর্তমানে এক ভয়াবহ নেতৃত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।
৪. বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ
ইরানের এই চরম বিপর্যয় এমন এক সময়ে ঘটল যখন পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা (ইসলামাবাদ বৈঠক) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
- প্রভাব: খামেনি এবং খারাজির মতো নেতাদের মৃত্যুতে এই মুহূর্তে ইরানের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মতো কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ অবশিষ্ট আছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।
- অনিশ্চয়তা: এই নেতৃত্বহীনতা কি ইরানি সশস্ত্র বাহিনীকে আরও বেপরোয়া করে তুলবে, নাকি তারা দ্রুত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের অধীনে আলোচনায় আসবে—তা এখন দেখার বিষয়।
ইরানের জন্য এই মুহূূর্তে শোকের ছায়া যেমন নেমেছে, তেমনি দেশটি তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে দাঁড়িয়ে আছে।
সূত্র: এএনআই



















