ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যেকোনো ধরনের মার্কিন সামরিক হামলাকে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ হিসেবে বর্ণনা করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। সম্প্রতি সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ ধরনের হঠকারী পদক্ষেপের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এর ফলে বড় ধরনের পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জেনেভায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার পরদিন ল্যাভরভের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জ্বালানি রাজনীতি ও নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ কেবল সামরিক উত্তেজনাই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি রাজনীতিরও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রুশ জ্বালানি কোম্পানি ‘লুকঅয়েল’ ও ‘রোসনেফট’-এর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এছাড়া ভারতকে রুশ তেল কেনা বন্ধ করতে চাপ দেওয়া এবং ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে রাশিয়া, চীন ও ইরানকে নিষিদ্ধ করার মতো মার্কিন সিদ্ধান্তগুলোকে তিনি বিশ্ববাজার থেকে রাশিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্বিমুখী’ নীতির অভিযোগ ল্যাভরভ রাশিয়ার ব্যবসায়িক স্বার্থে মার্কিন আঘাতের বিষয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন সংকটের সমাধানের কথা বলছে, অন্যদিকে একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়ার অর্থনীতিকে পঙ্গু করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের এই দ্বিমুখী নীতি এবং ইরানের প্রতি আক্রমণাত্মক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) নিয়ন্ত্রণে থাকা স্থাপনাগুলোতে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সূত্র: মেহের নিউজ।



















