জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল, ২০২৬) এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের মাধ্যমে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের বিচার পাওয়ার পথ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় প্রদান করেন।
রায়ের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সর্বোচ্চ সাজা: মৃত্যুদণ্ড
আবু সাঈদকে সরাসরি গুলি করার দায়ে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল দুইজন পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। তারা হলেন:
- সাবেক এএসআই আমির হোসেন
- সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, নিরস্ত্র এবং দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা একজন শিক্ষার্থীর ওপর সরাসরি গুলি চালানো কেবল অপেশাদারিত্ব নয়, বরং এটি ছিল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।
২. অন্যান্য আসামিদের সাজা
মামলার বাকি ২৮ জন আসামিকে অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্টতা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে:
- সাবেক উপাচার্য ও প্রক্টর: বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ এবং সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা এবং অপরাধে প্ররোচনা দেওয়ার দায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
- অন্যান্য পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতা: পলাতক ২৪ জনসহ গ্রেপ্তারকৃত বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
৩. আদালতের পর্যবেক্ষণ
রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, আবু সাঈদের সাহসিকতা এবং তাঁর শাহাদাত বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিপ্লবের সূচনা করেছিল। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছে, এই রায় তার বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা।
৪. প্রতিক্রিয়
রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে আবু সাঈদের পরিবার এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই রায়কে “ন্যায়বিচারের জয়” হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
আজকের এই রায় বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যতে এ ধরণের রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।



















