রাজধানীর ধানমন্ডিতে গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানায়, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্যের চেয়ে ঘাটতির পাল্লাই ভারী। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই আন্দোলন থেকে রাজনীতিবিদ ও আমলারা কোনো শিক্ষা নেননি। ফলে রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনের ভিত্তি স্থাপনের যে ম্যান্ডেট ছিল, তা এখনও নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
টিআইবি প্রতিবেদনের প্রধান পর্যবেক্ষণসমূহ
- সহিংসতা: গত ১৭ মাসে ৬০০টি রাজনৈতিক সংঘর্ষে ১৫৮ জন নিহত ও ৭ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন। তফসিল ঘোষণার পর ৩৬ দিনে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন।
- মব সন্ত্রাস: সচিবালয় থেকে শুরু হওয়া মব সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সরকারের নৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
- অস্ত্র উদ্ধার: থানা থেকে লুট হওয়া ১,৩৩৩টি অস্ত্র এখনো নিখোঁজ, যা নির্বাচনী নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
- প্রতিষ্ঠানিক দুর্বলতা: পুলিশ বাহিনীতে জনবল সংকট (মাত্র ৯-১০% মোতায়েনযোগ্য) এবং বিতর্কিত পর্যবেক্ষণ সংস্থাকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
- অস্বচ্ছতা: উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ না করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে গোপনীয়তার সংস্কৃতি বজায় থাকা।
- গণমাধ্যম: প্রস্তাবিত সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশকে ‘বিদায়ি পরিহাস’ বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি।
সংস্থাটি আরও জানায়, জুলাই যোদ্ধাদের অনুদান প্রদান ও জাদুঘর নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ এবং নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে সরকারের নির্লিপ্ততা সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর কয়েকদিন পর্যন্ত এই সহিংসতার ঝুঁকি বজায় থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে টিআইবি।



















