ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। দিল্লিতে সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আজ বুধবার (৮ এপ্রিল, ২০২৬) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।
বৈঠকের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. এস জয়শঙ্করের এক্স (টুইটার) বার্তা
বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ভেরিফাইড এক্স হ্যান্ডেলে বৈঠকের একটি ছবি পোস্ট করে জানান:
- আতিথেয়তা: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে দিল্লিতে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
- মূল আলোচনা: দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
- আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা) নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেছেন।
- যোগাযোগ: ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
২. বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদল
এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তাঁদের এই উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরিতে ঢাকা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
৩. সফরের সময়সূচি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তিন দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে গত মঙ্গলবার দিল্লি পৌঁছান।
- দিল্লি ত্যাগ: আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে তিনি দিল্লি থেকে মরিশাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
৪. রাজনৈতিক তাৎপর্য
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠক। দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো (যেমন তিস্তা পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা ও বাণিজ্য ঘাটতি) নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এই সফরটি একটি ‘আইসব্রেকার’ বা বরফ গলানোর প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে নতুন করে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।



















