শুক্রবার , ১২ জুন ২০২৬ | ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

করের ক্ষেত্রে যে আটটি পরিবর্তন আসছে

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ১২, ২০২৬ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ঐতিহাসিক ও সর্ববৃহৎ বাজেট পেশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী。 নতুন বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯default৫ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই সংগ্রহের দায়িত্ব থাকছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর。 ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা。

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কর ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় এনে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা এবং জনগণের হয়রানি দূর করে আস্থা ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য。 রাজস্ব ফাঁকি রোধের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবারের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক হ্রাস এবং দেশীয় শিল্পে ব্যাপক কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে。

ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ

বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করে পৌনে চার লাখ (৩ লাখ ৭৫ হাজার) টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আসন্ন করবর্ষ ২০২৭-২৮ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে。 এছাড়া আগামী ৫ বছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমার একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে:

  • সাধারণ করদাতা: ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা হবে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হবে।
  • নারী ও প্রবীণ নাগরিক: নারী করদাতা এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য বাৎসরিক করমুক্ত আয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
  • তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী: তৃতীয় লিঙ্গ এবং প্রতিবন্ধী করদাতাদের ক্ষেত্রে আগামী দুই অর্থবছরে করমুক্ত আয়ের পরিমাণ হবে ৫ লাখ টাকা।
  • যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই আন্দোলনকারী: গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং গেজেটভুক্ত জুলাই আন্দোলনের সংক্ষুব্ধ বা আন্দোলনকারীদের জন্য করমুক্ত আয়ের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ভোগ্যপণ্যে কর-শুল্ক হ্রাস

বিগত বছরগুলোর লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর হ্রাসের বড় জনমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:

  • ৬০টি নিত্যপণ্য: ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বীজসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে করের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • মসলা ও খেজুর: জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও ধনিয়াসহ বিভিন্ন মসলা এবং খেজুর আমদানির ওপর বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
  • শিশুখাদ্য: আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুতিমূলক সামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ফ্রিল্যান্সার ও মোবাইল সিম

তরুণ প্রজন্মের উদ্যম, সৃজনশীলতা ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে উৎসাহিত করতে বাজেটে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে:

  • ভ্যাট অব্যাহতি: দেশের লাখ লাখ তরুণ ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে মওকুফ বা ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সুবিধা পাবে।
  • সিম কর প্রত্যাহার: মোবাইল সেবা মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করতে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা হারে কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার ফলে সরকারের প্রায় ১২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হ্রাস পাবে。

সোনা, শিল্প ও কর কাঠামোয় রূপান্তর

ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজ করতে এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করতে কর ও শুল্ক কাঠামোয় বড় ধরনের রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে:

  • সোনা ও অলংকার: সোনা ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি জুয়েলারি সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরিতে ২,৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • প্রযুক্তি পণ্য ও দেশীয় শিল্প: দেশীয় শিল্পের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও টোনারসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বর্ধিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • কর্পোরেট কর ও অগ্রিম কর: পলিসি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিদ্যমান কর্পোরেট করের হার আগামী অর্থবছরে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে ব্যবসার সচল মূলধন আটকে রাখা সনাতন ‘ন্যূনতম কর’ পদ্ধতি বাতিল করে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী উৎসে করকে ‘অগ্রিম কর’ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব আনা হয়েছে, যেখানে অতিরিক্ত পরিশোধিত কর সরাসরি রিফান্ড (ফেরত) করা হবে।

ওষুধ শিল্প ও জনস্বাস্থ্য খাত

আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় ওষুধের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং স্থানীয়ভাবে আন্তর্জাতিক মানের ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ উৎপাদন নিশ্চিত করতে ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধের উপকরণ এবং ওষুধ তৈরির মূল উপাদান (API) সহ মোট ৭৭টি নতুন মৌলিক কাঁচামাল আমদানিতে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে:

  • ক্যানসার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিদ্যমান রেয়াতি শুল্ক সুবিধার প্রজ্ঞাপনে নতুন করে আরও ৯টি উপকরণ যুক্ত করা হয়েছে।
  • স্থানীয়ভাবে অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট বা এপিআই (API) উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • এছাড়া রপ্তানি বাজার ধরে রাখতে আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামালকে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে এবং জনস্বাস্থ্যের সুবিধার্থে কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে।

ইলেকট্রিক গাড়ি ও মোটরসাইকেলে শুল্ক ছাড়

দেশে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ব্যবহার বাড়াতে শুল্ক-কর ছাড়ের বড় প্রস্তাব এসেছে:

  • ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে বিদ্যমান সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব শুল্ক-কর ছাড়ের সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।
  • স্থানীয় উৎপাদন: দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনে উৎসাহিত করতে স্থানীয় উচ্চ মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যন্ত্রাংশ ও উপকরণ আমদানিতে মাত্র ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক রেখে বাকি সব শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। কম মূল্য সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক রাখা হয়েছে।
  • ই-বাইক ও বিআরটিএ ট্যাক্স হ্রাস: দেশীয় ই-বাইক উৎপাদন ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পার্টস উৎপাদনকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হবে। একই সাথে ইলেকট্রিক যানবাহনের বিআরটিএ (BRTA) নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২ লাখ টাকার অগ্রিম আয়কর উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সারা বছর রিটার্ন জমার সুযোগ ও প্রণোদনা

আয়কর ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন এনে এখন থেকে করদাতাদের জন্য সারা বছর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ চালু করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা বা ছাড় পাবেন:

রিটার্ন দাখিলের সময়কাল (কোয়ার্টার)কর রেয়াত / জরিমানার হার
প্রথম কোয়ার্টার (জুলাই-সেপ্টেম্বর)পরিশোধযোগ্য করের ৫% অথবা ২৫,০০০ টাকা (যেটি কম) ছাড় পাবেন।
দ্বিতীয় কোয়ার্টার (অক্টোবর-ডিসেম্বর)স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত কর পরিশোধ করতে হবে, কোনো প্রণোদনা বা জরিমানা থাকবে না।
তৃতীয় কোয়ার্টার (জানুয়ারি-মার্চ)পরিশোধযোগ্য করের অতিরিক্ত ২% অথবা ৩,০০০ টাকা (যেটি বেশি) জরিমানা বা অতিরিক্ত দিতে হবে।
চতুর্থ কোয়ার্টার (এপ্রিল-জুন)পরিশোধযোগ্য করের অতিরিক্ত ৫% অথবা ৫,০০০ টাকা (যেটি বেশি) জরিমানা হিসেবে দিতে হবে।

সর্বশেষ - অপরাধ