রবিবার , ২৩ নভেম্বর ২০২৫ | ৩রা আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

৭ মাত্রার বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
নভেম্বর ২৩, ২০২৫ ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

গতকাল, শনিবার সন্ধ্যায়, বাংলাদেশে একাধিক ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ঢাকার বাড্ডায় সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিট ৫ সেকেন্ডে উৎপন্ন হওয়া ভূকম্পনটি, যার রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৩.৭। এর ঠিক এক সেকেন্ড আগেই নরসিংদীতে ৪.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এছাড়া সকালে নরসিংদীর পলাশে ৩.৩ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল দেশে মাত্র সাড়ে সাত ঘণ্টার ব্যবধানে তিনবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা এই ঘন ঘন ছোট মাত্রার ভূমিকম্পগুলোকে ‘ফোরশক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, একের পর এক এই ছোট ভূমিকম্পগুলো একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রুবাইয়াত কবির এবং বুয়েটের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসার উভয়েই এই মত দিয়েছেন। অধ্যাপক আনসার জানান, ৫.৭ এবং ৩.৩ মাত্রার এই কম্পনগুলো একটি বড় ভূমিকম্পের (সাধারণত ৭ মাত্রার) পূর্বলক্ষণ হতে পারে। তিনি বলেন, সাধারণত ১৫ থেকে ২০টি ফোরশক হলে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ে এবং এর প্রেক্ষিতে আগামী দুই থেকে তিন দিন বা পরবর্তী চার থেকে পাঁচ দিন সতর্ক থাকতে হবে। ইতিহাস ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞরা এই অঞ্চলে ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়, তবে এর ফল হবে মারাত্মক। এর ফলে এক থেকে তিন লাখ মানুষ হতাহত হতে পারে এবং শহরের প্রায় ৩৫ শতাংশ ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান রাজউকের দুই বছর আগের একটি রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, মধুপুর ফল্টে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে শুধু ঢাকায় সাড়ে ৮ লাখের ওপর ভবন ধসে পড়বে এবং ২ লাখের বেশি প্রাণহানি ঘটবে। তিনি সতর্ক করেন যে ঢাকায় জনঘনত্ব হাইতির চেয়েও বেশি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে।

এই ভয়াবহ ঝুঁকি সামাল দেওয়ার জন্য সরকারকে অবিলম্বে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। তাঁর মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্পের প্রস্তুতি হিসেবে সরকারকে এখন থেকেই শুক্রবার ভূমিকম্পে ফাটল দেখা দেওয়া এবং হেলে পড়া ভবনগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এছাড়া, ওয়ার্ডভিত্তিক উচ্চ ও মাঝারি ঝুঁকির ভবনগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর রেট্রোফিটিং করতে হবে। পাশাপাশি, জলাশয় ভরাট করে এবং নিয়ম ভেঙে ভবন নির্মাণকারী মালিক ও নির্মাতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সর্বশেষ - অপরাধ