গতকাল (২৯ মার্চ, ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে। মাগরিবের বিরতির পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের একটি মুলতবি নোটিসকে কেন্দ্র করে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়।
ঘটনার মূল প্রবাহ ও প্রধান বিতর্কের বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি নোটিস
বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর নোটিসে অভিযোগ করেন যে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’-এর অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী, নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর অধিবেশন ডাকার বিধান থাকলেও তা এখনো করা হয়নি। তিনি এটিকে জাতির প্রত্যাশার পরিপন্থী এবং একটি ‘অচলাবস্থা’ হিসেবে অভিহিত করে সংসদের কার্যক্রম মুলতবি রেখে আলোচনার দাবি জানান।
২. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনি চ্যালেঞ্জ ও পাল্টা প্রস্তাব
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এই নোটিসকে ‘অবৈধ’ ও ‘অপরিণত’ বলে দাবি করেন। তাঁর মতে:
- নোটিসটি কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ ধারার পরিবর্তে ৬৮ ধারায় আসা উচিত ছিল।
- তিনি বিরোধী দলের এই পদক্ষেপকে ‘অপেশাদার’ এবং ‘সংসদীয় প্রথা বহির্ভূত’ বলে সমালোচনা করেন।
- বিকল্প প্রস্তাব: তিনি সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘সংবিধান সংস্কার কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন, যা বিশিষ্টজন ও সম্পাদকদের সাথে কথা বলে রিপোর্ট দেবে।
৩. আইনমন্ত্রীর অবস্থান ও নথিপত্র তলব
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আলোচনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও প্রস্তুতির জন্য সময় চান। তিনি আলোচনার আগে প্রতিটি সংসদ সদস্যের টেবিলে নিচের নথিপত্রগুলো সরবরাহ করতে স্পিকারকে অনুরোধ করেন:
- বিদ্যমান সংবিধান।
- জুলাই জাতীয় সনদ।
- জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫।
- গণভোট অধ্যাদেশ ও মদিনা সনদ।
৪. বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের কড়া বক্তব্য
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ফ্লোর নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন। তিনি জোরালোভাবে বলেন:
“আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য এখানে আসিনি; আমরা এসেছি সংবিধান সংস্কারের জন্য। এই সংসদের ভিত্তি হচ্ছে গণভোট এবং জুলাই সনদ। সেই গণরায়কে অমান্য করা হচ্ছে।”
৫. অধিবেশনে হট্টগোল ও ডেপুটি স্পিকারের ভূমিকা
অধিবেশনে যখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সরকারি দলের চিফ হুইপকে বারবার ফ্লোর দেওয়া হচ্ছিল, তখন বিরোধী জোটের এমপিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
- অভিযোগ: বিরোধী দলের সদস্যরা অভিযোগ করেন যে, সংসদ ‘গায়ের জোরে’ চালানো হচ্ছে এবং বিরোধী দলকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।
- স্লোগান: তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীকে ‘ব্যর্থ’ বলে চিৎকার করতে থাকেন এবং ডেপুটি স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
- ডেপুটি স্পিকারের চেষ্টা: স্পিকারের আসনে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বারবার সংসদীয় বিধি মেনে চলার অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পরবর্তী সিদ্ধান্ত
দীর্ঘ বিতর্কের পর ডেপুটি স্পিকার রুলিং দেন যে, আগামীকাল ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) দিনের অন্যান্য কার্যসূচি শেষে এই জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিসের ওপর দুই ঘণ্টা বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।



















