ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের ওপর এক বিশেষ স্মারক বক্তব্য প্রদান করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের মূল দিকসমূহ:
- শ্রদ্ধা নিবেদন: বক্তব্যের শুরুতেই তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
- আপসহীন নেতৃত্ব: তিনি উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর ৪৩ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসের ৪৩ বছরই তিনি দাপটের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী ও দুইবার বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- উন্নয়ন ও সংস্কার: মির্জা ফখরুল বেগম জিয়ার গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা স্মরণ করেন। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, উন্মুক্ত ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের অনুমতি প্রদান, কৃষকদের ঋণ মওকুফ এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ভ্যাট (VAT) প্রবর্তন উল্লেখযোগ্য।
- প্রতিহিংসা নয়, ভালোবাসা: তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত শাসনামলে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তবে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে ভালোবাসার মাধ্যমে একটি কল্যাণকর বাংলাদেশ গড়ার ডাক দিয়েছেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রখ্যাত কবি আল মাহমুদের রচিত বেগম খালেদা জিয়াকে নিবেদিত কবিতার কয়েকটি পঙ্ক্তি আবৃত্তি করে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেন। তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সংসদে দীর্ঘদিনের এক রাজনৈতিক মহিয়সীর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের স্বীকৃতি ফুটে ওঠে।


















