মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক প্রতিশোধমূলক হামলায় অন্তত সাতজন মার্কিন সেনা নিহত এবং বিশাল আর্থিক ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ বিশ্লেষণে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের জবাবে তেহরান এই পাল্টা আঘাত হানে। উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্র এবং কর্মকর্তাদের বিবৃতির ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির প্রধান তথ্যসমূহ:
- প্রাণহানি: গত ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে মার্কিন আবাসন লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় ভবনের ছাদ ধসে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। একই দিনে সৌদি আরবে একটি পৃথক হামলায় আরও একজন সেনা নিহত হয়েছেন।
- আক্রান্ত স্থাপনা: গত কয়েক দিনে ওই অঞ্চলে আমেরিকার অন্তত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি আল-উদেইদ (কাতার), প্রিন্স সুলতান (সৌদি আরব), আলী আল-সালেম (কুয়েত) এবং ক্যাম্প বুহরিং উল্লেখযোগ্য।
- আর্থিক ক্ষতি: বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে মাত্র একটি হামলায় প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত: ইরানের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল আমেরিকার অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যোগাযোগ অবকাঠামো:
- THAAD রাডার ধ্বংস: জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে একটি থাড (THAAD) রাডার সেন্সর ধ্বংস হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার।
- দীর্ঘ পাল্লার রাডার: কাতারে অবস্থিত ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক লং-রেঞ্জ রাডার সিস্টেমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত: ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণার চেয়ে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও হামলার তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। পেন্টাগনের প্রতিবেদনে এই বিশাল আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতির কথা স্বীকার করা হয়েছে, যা ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
সূত্র: প্রেস টিভি



















