গতকাল (মঙ্গলবার, ২২ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ‘এফ-৭ বিজিআই’ বিধ্বস্ত হওয়ার পর এর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমানটি নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলার বিমান বাহিনীর এ কে খন্দকার ঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয়।
আইএসপিআর আরও জানায়, এই দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বিমানের বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম বিমানটিকে ঘনবসতি থেকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিমানটি ঢাকার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল এবং কলেজের দোতলা একটি ভবনে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে।
জানা গেছে, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি ছিল ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের ‘সোল ফ্লাইট ট্রেনিং’ এর অংশ। সদ্য বিবাহিত এই তরুণ পাইলট এদিনই তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনিং ফ্লাইটে অংশ নিচ্ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, শেষ মুহূর্তে এই পাইলট বিমানটিকে বাঁচানোর এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন।
দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলা পুরাতন এয়ারফোর্স বেস থেকে ‘এফ-৭ বিজিআই’ মডেলের যুদ্ধবিমানটিতে এককভাবে উড্ডয়ন করেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির। সোল ফ্লাইট ট্রেনিংয়ে কোনো কো-পাইলট, নেভিগেটর বা ইন্সট্রাক্টর থাকে না। এটি একজন পাইলটের প্রশিক্ষণের সর্বশেষ ধাপ, যা একজন ফাইটার পাইলটের দক্ষতা ও প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায় প্রমাণ করে।
সাধারণত ট্রেনিং ফ্লাইটগুলো জনবসতি থেকে দূরে পরিচালিত হলেও, সোল ফ্লাইট ট্রেনিং অনেক সময় শহরের আকাশপথেই সম্পন্ন হয়, যার জন্য উচ্চমাত্রার দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন। তৌকির ছিলেন একজন অত্যন্ত যোগ্য পাইলট। উড্ডয়নের পর তিনি উত্তরা, দিয়াবাড়ী, বাড্ডা, হাতিরঝিল ও রামপুরা এলাকা হয়ে উড়ছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বিমানে কারিগরি সমস্যার আভাস পান এবং কন্ট্রোল রুমে জানান যে, বিমানটি নিচের দিকে নামছে ও স্বাভাবিক ভেসে থাকার ক্ষমতা হারাচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল রুম থেকে তাঁকে ‘ইজেক্ট’ (জরুরি অবস্থায় পাইলটের সিট খুলে তাঁকে বের করে দেওয়া) করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তৌকির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিমানটি বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তিনি সর্বোচ্চ গতিতে বিমানটিকে ঘুরিয়ে এয়ারবেসের দিকে ফেরার চেষ্টা করেন। এর মধ্যে হঠাৎ কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাত্র এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিধ্বস্ত হয়।



















