রাজধানীর কেরানিগঞ্জের কদমতলী এলাকার একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় আজ শনিবার (৪ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের জোন কমান্ডার (ঢাকা দক্ষিণ) ফয়সালুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা ও বর্তমান পরিস্থিতির বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
১. হতাহত ও নিখোঁজ সংবাদ
- নিহত: ফায়ার সার্ভিস এখন পর্যন্ত ৫ জন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে।
- আহত: এক নারীসহ অন্তত ৩ জন শ্রমিক গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
- নিখোঁজ: নাঈম নামের এক কিশোরসহ আরও ৫ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে তাঁদের স্বজনরা দাবি করছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো তল্লাশি চলছে।
২. অগ্নিকাণ্ডের বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান
- সময়: বেলা পৌনে একটার দিকে আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা বউ বাজার এলাকার টিনশেড কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়।
- বিস্ফোরণ: আগুনের পরপরই কারখানার ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলো একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে, যার শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
- ফায়ার সার্ভিস: খবর পেয়ে প্রথমে ৩টি এবং পরবর্তীতে মোট ৭টি ইউনিট দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সাথে আগুন নেভানোর কাজে হাত বাড়ান।
৩. অব্যবস্থাপনা ও অতীতের রেকর্ড
- নিরাপত্তার অভাব: ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারখানাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।
- পুরানো ইতিহাস: স্থানীয়দের মতে, এই কারখানায় এর আগেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
৪. বর্তমান অবস্থা
কারখানাটিতে প্রায় ২০০ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা কারখানার ভেতরে ‘ডাম্পিং’ বা আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ করছেন এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হতে পারে।



















