বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও চলমান ঋণ প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের মেয়াদ শেষে বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম বাজেট প্রণয়ন কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঋণের ঝুঁকি পর্যালোচনা ও সামষ্টিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে চলতি মার্চ মাসের ৯ বা ১০ তারিখে আইএমএফের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফরে আসছে। এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। সফরকালে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বিভাগগুলোর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
বিগত দেড় বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির বেশ কিছু উল্লেখ্যযোগ্য পরিবর্তন ও চ্যালেঞ্জ আইএমএফের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে:
- রিজার্ভ ও ঋণ পরিশোধ: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৭ বিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অর্থনৈতিক চড়াই-উতরাই সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত বিদেশি ঋণের কোনো কিস্তি খেলাপি হয়নি এবং পরিশোধ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রেখেছে।
- বিদ্যমান সংকট: অর্থনীতির ইতিবাচক কিছু দিক থাকলেও রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি, বিনিয়োগে ভাটা এবং টানা চার বছর ধরে প্রায় দুই অঙ্কের কাছাকাছি থাকা মূল্যস্ফীতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে বৈদেশিক ঋণ ছাড় গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কমে ২.৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
- ঋণ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ: ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি বর্তমানে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। আট কিস্তির এই ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। আগামী জুনে ষষ্ঠ ও সপ্তম কিস্তির অর্থ ছাড়ের কথা রয়েছে। সংস্কার কর্মসূচির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে আইএমএফ নির্বাচিত নতুন সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান ও পরিকল্পনা সরাসরি যাচাই করতে চাইছে।
যদিও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতির অবনতি হলে এই সফর কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে, তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যেই প্রতিনিধিদলটিকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। আইএমএফ মনে করে, একটি নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন বাজেটে আইএমএফের শর্তাবলি এবং সংস্কার প্রস্তাবনাগুলোর প্রতিফলন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।


















