জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম অগ্রসেনানী দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দলটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং ঐক্যবদ্ধ করতে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ সভা আহ্বান করা হয়েছে। এই সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা এবং আগামী দিনের সাংগঠনিক রূপরেখা নির্ধারণ করা হবে। সম্প্রতি দলটির শীর্ষ নেতারা নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৩০ জন প্রার্থীকে নিয়ে প্রাথমিক বৈঠক করেছেন, যেখানে তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
অভিমানী নেতাদের ফেরার আহ্বান নির্বাচনের আগে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং তাজনূভা জাবিনসহ অন্যান্য স্তরের নেতাদের পুনরায় দলে ফেরাতে তৎপরতা শুরু করেছে এনসিপি। এ প্রসঙ্গে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানিয়েছেন যে, পদত্যাগ করা কোনো নেতার পদত্যাগপত্রই দল আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেনি। তিনি আরও বলেন, “আমরা একসাথে আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছি; আমাদের দরজা সবার জন্য খোলা। ২৬ ফেব্রুয়ারির সাধারণ সভায় তাঁদের সসম্মানে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এবং দল শক্তিশালী করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।”
তৃণমূল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে অনেক প্রার্থী তৃণমূল পর্যায়ে মজবুত সংগঠন না থাকায় বেশ প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এনসিপি এখন দেশজুড়ে সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড়িয়ে করাতে মনোযোগ দিচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতারা সাফ জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাঁরা নির্বাচনে পেয়েছেন, তাকে শক্তিতে রূপান্তর করতে তৃণমূল পুনর্গঠনই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। নতুন নেতাকর্মী সংগ্রহ এবং পুরনোদের পুনর্মিলনের মাধ্যমে এনসিপি আগামীতে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায়।



















