প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথাগত ১০০ দিনের পরিবর্তে ১৮০ দিনের (৬ মাস) একটি বিশেষ অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণের দেওয়া বিপুল ম্যান্ডেটের সম্মান রক্ষার্থে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে কাজ করতে হবে।
১৮০ দিনের পরিকল্পনার মূল ফোকাস:
- বাজার নিয়ন্ত্রণ ও রমজান প্রস্তুতি: আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখা এবং সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করাকে এক নম্বর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
- সামাজিক সুরক্ষা কার্ড: ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, সাধারণ মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ দ্রুত চালু করার কাজ শুরু হবে।
- আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমন: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতিমুক্ত ‘ক্লিন গভর্নমেন্ট’ প্রতিষ্ঠার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
- ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা: ধর্মীয় সেবকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি ও বিশেষ ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া এই ১৮০ দিনের মধ্যেই শুরু করার কথা বলা হয়েছে।
- বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশে কর্মী প্রেরণের পথ সহজ করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয় আগামী দু-এক দিনের মধ্যে তাদের নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেবে। এছাড়া, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি উল্লেখ করেছেন যে, এই ১৮০ দিনের রোডম্যাপটি কেবল একটি সরকারি রুটিন কাজ নয়, বরং রাষ্ট্র মেরামতের ‘৩১ দফা’ বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ। প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাঁরা ব্যক্তিগত প্রভাব বা স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের জন্য কাজ করেন।



















