এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের কঠোর অবস্থান
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সংসদের শুরুতেই এক বড় ধরনের রাজনৈতিক নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় তাদের পথ অনুসরণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সংসদ সদস্য হিসেবে কোনো শপথই না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার পর এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, আইন অনুযায়ী বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ না নিলে তাঁর জোটের কোনো সদস্যই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না।
গণভোটের জনরায় অবমাননার অভিযোগ
আসিফ মাহমুদ তাঁর অপর এক পোস্টে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “গণভোটের জনরায়কে প্রথম দিনেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শুরু হলো নতুন সংসদের যাত্রা।” উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘জুলাই সনদ’ ও সংবিধান সংস্কারের পক্ষে বিপুল জনরায় এসেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল। তবে বিএনপি এটিকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে বর্জন করায় এখন ১১ দলীয় জোটও একই পথে হাঁটল। তারা মনে করছে, সংস্কার পরিষদের শপথ ছাড়া সংসদের যাত্রা শুরু হওয়া মানেই হলো ছাত্র-জনতার বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করা।
ঝুলে গেল সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া
বিএনপির ২০৯ জন এবং ১১ দলীয় জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য শপথ না নিলে ত্রয়োদশ সংসদের ভবিষ্যৎ এবং সংবিধান সংস্কারের কার্যক্রম বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বিএনপি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদ বর্জন করেছে, কিন্তু এনসিপি ও ১১ দলীয় জোট পুরো শপথ প্রক্রিয়া থেকেই বিরত থাকার ঘোষণা দেওয়ায় এক নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। আজ বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান থাকলেও সংসদের এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী রাষ্ট্র মেরামতের প্রক্রিয়াকে শুরুতেই হোঁচট খাওয়াল।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারণি (১৭ ফেব্রুয়ারি):
| সময় | ঘটনা | বর্তমান পরিস্থিতি |
| সকাল ১০:৪০ | বিএনপির এমপিদের শপথ গ্রহণ | কেবল এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সংস্কার পরিষদে নন। |
| সকাল ১১:৩০ | আসিফ মাহমুদের ঘোষণা | বিএনপি সংস্কার পরিষদে নেই বলে ১১ দল কোনো শপথই নেবে না। |
| বিকেল ৪:০০ | প্রধানমন্ত্রীর শপথ (সম্ভাব্য) | রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই প্রস্ততি চলছে। |



















