জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কারের ম্যান্ডেট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল নিয়ে আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বেলা ১১টায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, “জনগণ আর পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে যেতে চায় না। এই রায় প্রমাণ করে যে, মানুষ একটি বৈষম্যহীন এবং স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক নতুন বাংলাদেশ চায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ম্যান্ডেট এখন নবনির্বাচিত সংসদ ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর একটি নৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করল।
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন সংবাদ সম্মেলনে আলী রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন যে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ কেবল একটি লিখিত দলিল নয়, এটি ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত একটি অঙ্গীকারনামা। গণভোটের এই ফলাফল আগামীতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এবং কোনো একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পথ চিরতরে বন্ধ করবে। তিনি বলেন, “জনগণ সরাসরি ভোটের মাধ্যমে এই সনদকে গ্রহণ করেছে, যার ফলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।” উল্লেখ্য যে, গণভোটে ৬০.২৬ শতাংশ ভোটার তাদের মত প্রদান করেছেন, যার বিশাল অংশই সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা অধ্যাপক আলী রীয়াজ মনে করেন, গণভোটের এই বিজয় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বার্তা। নির্বাচনে কোনো দল জয়ী হওয়া মানে এই নয় যে তারা সংস্কারের পথ থেকে বিচ্যুত হতে পারবে। বরং গণভোটের এই ফলাফলের কারণে যে কোনো দল ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা জুলাই সনদের মূলনীতিগুলো মেনে চলতে বাধ্য থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ম্যান্ডেটকে ধারণ করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনীগুলো সম্পন্ন করবে।



















