জয়ের আত্মবিশ্বাস ও জনমত জরিপের আভাস আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন বিএনপি লাভ করবে। দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ অন্তত দুই শতাধিক আসনে জয় পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা মাঠে আছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপেও বিএনপির এই অগ্রযাত্রার আভাস পাওয়া গেছে; বিশেষ করে ‘ইএএসডি’-র এক জরিপ অনুযায়ী বিএনপি জোট ২০৮টি আসনে জয়ী হতে পারে। তবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বিএনপিকে বেশ কিছু আসনে শক্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হতে পারে বলেও জরিপগুলোতে উঠে এসেছে।
কারসাজি রোধে ‘ভোর থেকে কেন্দ্র পাহারা’র ডাক নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও ভোট কারচুপি বা ‘ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং’ নিয়ে বিএনপির মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তারেক রহমান তাঁর প্রতিটি নির্বাচনী জনসভায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন, যেন ভোটাররা ভোটের দিন ভোরেই কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়েন এবং ভোট শুরুর মুহূর্ত থেকে শেষ পর্যন্ত অবস্থান করেন। ফলাফল নিজ চোখে বুঝে না নেওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ত্যাগ না করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “একটি চক্র ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে, তাদের প্রতিহত করতে হবে।” বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও জানিয়েছেন যে, এবার নির্বাচন কমিশনের ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ ব্যবস্থার ওপর তাঁদের নজর থাকবে।
এনসিপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমীকরণ এবারের নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো তারুণ্যনির্ভর দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’-র অবস্থান। জুলাই অভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা এই দলটি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হওয়ায় জেন-জি (Gen-Z) ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এনসিপির অনেক নেতা জামায়াত জোটে যাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে দল ত্যাগ করেছেন। এর ফলে ডা. তাসনিম জারার মতো অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যা অনেক আসনে ভোট ভাগাভাগির সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিএনপি মনে করছে, এই বিভাজন এবং জেন-জিদের অসন্তোষ শেষ পর্যন্ত তাদের পক্ষেই যাবে।
নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তক্ষেপের দাবি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন অভিযোগ করেছেন যে, একটি নির্দিষ্ট দল টাকা দিয়ে ভোট কেনা এবং জাল ভোটের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি এই কর্মকাণ্ডকে ওই দলের ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব’ হিসেবে অভিহিত করে নির্বাচন কমিশনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিএনপির দাবি, সারাদেশে ধানের শীষের পক্ষে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তা কোনো বাধা দিয়ে থামানো সম্ভব নয়। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিএনপির প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন, অন্য কোনো দলের সমর্থন ছাড়াই তাঁরা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আগামী সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন।



















