ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশকে ‘অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক’ বলে অভিহিত করেছেন। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের যাত্রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু আসনে সামান্য ঝুঁকি থাকলেও সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক। বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যেন নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে ইইউ মিশন কড়া নজর রাখছে।
পর্যবেক্ষক দলের বিস্তৃতি ও কর্মতৎপরতা নির্বাচনের দিন স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে আজ থেকেই দেশজুড়ে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই পর্যবেক্ষকরা দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক জেলায় উপস্থিত থেকে ভোটকেন্দ্র খোলা, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি তদারকি করবেন। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে কাজ শুরু করা ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষকের ধারাবাহিকতায় এই নতুন দলটি যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক এবারের ঐতিহাসিক নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকবেন।
প্রাথমিক ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সূচি ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাঁদের এই বিশাল পর্যবেক্ষণ মিশনের ফলাফল ধাপে ধাপে প্রকাশ করবে। মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের ওপর একটি প্রাথমিক বিবৃতি বা ‘প্রিলিমিনারি স্টেটমেন্ট’ উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং আইনি বিষয়গুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের গুণগত মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা থাকবে। এই প্রতিবেদনগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করা হয়েছে।



















