হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা গত কয়েকদিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ১৬টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পার হয়েছে, যা টানা তিন দিনের একটি ঊর্ধ্বমুখী সূচক নির্দেশ করছে।
ঘটনাপ্রবাহের মূল দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. সমঝোতা ও নতুন রুট
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজই ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এবং দেশটির শর্ত মেনে চলছে। তথ্য অনুযায়ী, জাহাজগুলো এখন ইরানের লারাক দ্বীপের রুটটি ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, অনেক দেশ এখন ঝুঁকি এড়াতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।
২. ট্রানজিট ও টোল নীতি
ইরান ঘোষণা করেছে যে, বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় বিশ্বের যেকোনো দেশ তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে এবং নির্ধারিত টোল প্রদান করে এই রুটটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে:
- শত্রু দেশ: যাদের সাথে ইরানের সরাসরি বিরোধ রয়েছে, তাদের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
- মিত্র দেশ: তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা বা অগ্রাধিকার থাকতে পারে।
৩. সাধারণ সময়ের তুলনায় বর্তমান চিত্র
যদিও জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে, তবে তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনো অনেক কম। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (UNCTAD) তথ্যমতে:
- ২৮ ফেব্রুয়ারি (যুদ্ধের আগে): দৈনিক গড়ে ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত।
- বর্তমান পরিস্থিতি: দৈনিক মাত্র ১৬টি জাহাজ (বুধবারের হিসাব অনুযায়ী)।
৪. বৈশ্বিক গুরুত্ব
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে পৌঁছায়। ফলে এই রুটে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পাওয়া বিশ্ববাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনের দিনগুলোতে সমঝোতাকারী দেশের সংখ্যা বাড়লে ট্রানজিটের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আলজাজিরা



















