সড়কে বাসের আকাল ও যাত্রীদের দুর্ভোগ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন যানবাহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রভাবে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল থেকেই ঢাকা মহানগরের গণপরিবহনে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীদের একমাত্র ভরসা এখন বাস, কিন্তু সড়কে বাসের সংখ্যা অন্যদিনের তুলনায় অনেক কম। রামপুরা, ফার্মগেট, শাহবাগ এবং মিরপুর-১০ এর মতো ব্যস্ত মোড়গুলোতে দেখা গেছে শত শত মানুষের দীর্ঘ সারি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত বাস না পেয়ে অনেক অফিসগামী মানুষকে হেঁটে অথবা অতিরিক্ত রিকশা ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
নিরাপত্তার আতঙ্ক ও শ্রমিকদের বক্তব্য পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মতে, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি এবং বিভিন্ন মোড়ে চেকপোস্টের কারণে অনেক মালিক সড়কে গাড়ি নামাতে ভয় পাচ্ছেন। তুরাগ বাসের চালক আলী মিয়া জানান, রাস্তায় তল্লাশি আর জেরা সামলে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া নির্বাচনকালীন সহিংসতার আশঙ্কায় অনেক বেসরকারি কোম্পানি তাদের বাস চলাচল সীমিত করে দিয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বেসরকারি চাকুরিজীবী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বিধিনিষেধের সময়সীমা ও বর্তমান পরিস্থিতি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে আগামী শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত টানা ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া আগামীকাল বুধবার মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস ও পিকআপ চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। নগরবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিকল্প গণপরিবহন ব্যবস্থা সচল না রাখায় সাধারণ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং জরুরি চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ছে।



















