ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দুর্নীতিই বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান অন্তরায় এবং তাঁর দল ক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা হবে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি—এই তিন স্তরের সমন্বিত কৌশলের মাধ্যমে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক প্রকাশ্য শাস্তির ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরে চরমোনাই পীর বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার পায়নি। অতীতের শাসকগোষ্ঠীর ব্যর্থতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভুল নীতি ও অযোগ্য নেতা নির্বাচনের দায় সাধারণ জনগণের ওপরও বর্তায়। তাই দেশ রক্ষায় এবার ইসলামি মূলনীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষণে দলটির ৩০ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বিষয়গুলো পাঠ করেন এবং একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে জনগণের সমর্থনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভোট প্রদানের বিষয়ে ইসলামের নীতি ব্যাখ্যা করে তিনি ভোটারদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক নেতৃত্ব নির্বাচনই পারে অস্থিরতা কাটিয়ে দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে। ভাষণের শেষ পর্যায়ে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের উন্নয়নসহ খাতওয়ারি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ কামনা করেন তিনি।



















