রাজধানীর শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এবং এর আশপাশের এলাকায় আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর আজ এই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য সারি সারি জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে গতকালের মতো রাস্তাগুলোতে কোনো কাঁটাতারের ব্যারিকেড দেখা যায়নি, যার ফলে যানচলাচল স্বাভাবিক থাকলেও জনমনে আতঙ্কের কারণে পথচারী ও যানবাহনের সংখ্যা অনেকটা কম।
গতকালের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে এবং হামলায় সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অন্তত ৭০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যমুনা ও তার আশপাশে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করায় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে সরকার জানিয়েছে, আহতদের শরীরে কোনো গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আজ দুপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে নতুন করে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও কঠোর রূপ নিয়েছে। ভিডিও বার্তায় আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচন বানচাল করতেই তাঁদের ওপর এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, যত রক্তই ঝরুক না কেন, নির্বাচন অবশ্যই ১২ তারিখেই হতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই তা পেছানো যাবে না। একই সাথে তিনি জুলাই গণভোটে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। সরকার হাদি হত্যার বিচারে বদ্ধপরিকর এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে তদন্ত নিশ্চিত করতে চায়। তবে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর নতুন সরকার যদি এই হত্যার বিচারে কোনো গাফিলতি করে, তবে তারা কঠোর আন্দোলনে ফিরে যাবে।



















