বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীলফামারীতে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তাঁর দল ক্ষমতায় আসলে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বেলা আড়াইটার দিকে নীলফামারী পৌরসভা মাঠে আয়োজিত এই জনভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, তিস্তা নদী এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হওয়ার কথা থাকলেও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তা এখন দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ক্ষমতায় গেলে সব বাধা উপেক্ষা করে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
নীলফামারীর অর্থনৈতিক ও শিল্প উন্নয়নে তাঁর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নীলফামারী জেলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বেকার তরুণদের জন্য বড় আকারে চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে। এ ছাড়াও দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিশেষ ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগামী দিনের রাজনীতি হবে নিছক ক্ষমতার নয়, বরং দেশ গঠনের এবং এই যাত্রায় দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সাথে নিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে চান।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ কিংবা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কোনো ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ছিল না; দেশ পুনর্গঠনেও বিএনপি সেই অসাম্প্রদায়িক নীতি বজায় রাখবে। তিনি ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অন্যায়কারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। পরিশেষে তিনি নীলফামারীর চারটি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের উপস্থিত জনসাধারণের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।


















