বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে ‘পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতা’র ভিত্তিতে বন্ধুত্বের নতুন বার্তা দিয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
পররাষ্ট্রনীতি ও ভারত প্রসঙ্গ:
- বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা: জামায়াত জানিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে ভারতসহ সব প্রতিবেশী দেশের (নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও থাইল্যান্ড) সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা হবে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘শান্তি ও সহযোগিতা’র ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
- মুসলিম বিশ্ব ও পাশ্চাত্য: পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইইউ, জাপান ও কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- পাসপোর্টের মর্যাদা: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি পাসপোর্টের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইশতেহারের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দিক:
- নারীদের কর্মঘণ্টা: কর্মজীবী নারীদের জন্য কর্মঘণ্টা কমানোর পরিকল্পনা এবং সরকারি অর্থায়নে তাদের আয়ের ভারসাম্য রক্ষার প্রস্তাব করা হয়েছে।
- দুর্নীতিমুক্ত শাসন: রাষ্ট্রের সকল সেবা খাত (ভূমি অফিস, থানা) দুর্নীতিমুক্ত করা এবং সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ সুবিধা (প্লট বা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি) না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
- শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্ম: মেধাভিত্তিক নিয়োগ, ৫ লাখ গ্র্যাজুয়েটকে ‘কর্জে হাসানা’ বা সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসার।
- স্বাস্থ্যসেবা: ৫ বছরের কম এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার নিশ্চয়তা এবং প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ।
জামায়াত এই ইশতেহারকে কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি ‘বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক’ রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা হিসেবে দাবি করেছে।



















