মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪.১ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দূরে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া এলাকায়। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। মৃদু মাত্রা এবং অধিক গভীরতার কারণে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাশাপাশি ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এবং ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র (ইএমএসসি)-ও এই একই ভূকম্পন রেকর্ড করেছে। ভোরে হঠাৎ এই কম্পনে সাতক্ষীরা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি
গত কয়েক মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘন ঘন মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ছোট ছোট কম্পনগুলো বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বসংকেত হতে পারে। তাদের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে:
- ফল্ট লাইন সক্রিয়: বাংলাদেশ তিনটি টেকটোনিক প্লেটের (ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা প্লেট) সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে ভূ-অভ্যন্তরে প্রচুর শক্তি জমা হচ্ছে।
- বড় ভূমিকম্পের শঙ্কা: বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বাংলাদেশে রিখটার স্কেলে ৭ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, যা বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে।
- সতর্কতা ও প্রস্তুতি: ঘরবাড়ি নির্মাণে যথাযথ ‘বিল্ডিং কোড’ অনুসরণ এবং নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।



















