ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলটি সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রবেশ করেন। বৈঠকে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এই বৈঠককে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকের প্রধান আলোচনাসমূহ ও সিদ্ধান্ত:
- নির্বাচনী নিরাপত্তা ও সিসি ক্যামেরা: বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র জানুয়ারি মাসের মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে এবং একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো পরিস্থিতি মনিটর করা হবে।
- নির্বাচনী প্রচারণা: জামায়াত নেতারা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন যে, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে তাঁরা পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। একই সঙ্গে তাঁরা আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও প্রচারণা চালাবেন।
- পক্ষপাতহীন প্রশাসনের দাবি: জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার একটি বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এর জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যেভাবেই হোক আমাদের ভালো নির্বাচন করতে হবে।” তিনি নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত কমিশন বা সরকারকে জানানোর পরামর্শ দেন।
- গণভোটের বৈধতা: গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, এর কোনো আইনি বাধা নেই এবং সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।
বৈঠক শেষে জামায়াত নেতারা জানান, একটি অংশগ্রহণমূলক ও ভয়ভীতিহীন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টাকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা কামনা করে দৃঢ়ভাবে বলেন যে, এবারের নির্বাচনে কোনো ‘গোজামিল’ থাকবে না এবং নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।



















