আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য অবস্থান কেন নৈতিক ও গণতান্ত্রিক—সে বিষয়ে এক বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি, ২০২৬) এক বিবৃতিতে জানানো হয়, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর অধীনে প্রস্তাবিত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতার পরিপন্থী নয়, বরং এটি তাদের মূল দায়িত্ব বা ম্যান্ডেটেরই অংশ। এই সরকার শুধু রুটিন কাজের জন্য নয়, বরং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছে। তাই গত আঠারো মাসে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের পরামর্শে যে সংস্কার কাঠামো তৈরি হয়েছে, গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মুহূর্তে সেই সংস্কার থেকে সরকারের নিজেকে দূরে রাখা বাস্তবসম্মত ও দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে নীরব থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট গণভোট, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার গণভোট এবং ফ্রান্স বা তুরস্কের সাংবিধানিক পরিবর্তনের নজির তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রপ্রধানরা সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রেস উইং স্পষ্ট করেছে যে, অধ্যাপক ইউনূস বা তাঁর উপদেষ্টাদের এই প্রচারণার পেছনে কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ বা ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্দেশ্য নেই। জেলা পর্যায়ে প্রশাসনের প্রচারণার মূল লক্ষ্য হলো ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি দূর করে নাগরিকদের সচেতন করা। পরিশেষে বলা হয়েছে, এই সংকটময় মুহূর্তে নেতৃত্বের নীরবতা পরিবর্তনের ধারাবাহিকতাকে নষ্ট করতে পারে; তাই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একটি প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মালিক থাকবেন দেশের সাধারণ জনগণই।



















