বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনের বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইতোমধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এই পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে। গত ২২ জুন নির্বাচন কমিশনে দলের নিবন্ধন আবেদন জমা দেওয়ার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জোর দিয়ে বলেছেন, “দেশে অনেক সংস্কার শুরু হয়েছে। জনগণের দাবি, অবশ্যই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন হবে। আমরা এখনো দাবি করছি বর্তমান ইসির পুনর্গঠন করতে হবে। এ ইসি পুনর্গঠন হতে হবে এবং পুনর্গঠন হবেই। আমরা ‘বি’ অপশনে যাচ্ছি না। আর কোনো বিকল্প নেই।” ওই দিন বিকেলে তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-এর সাথে বৈঠকও করেন।
বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, দলগুলোর এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইসি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন, ২০২৫) শেষ কর্মদিবসে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই পুনর্গঠনের বার্তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনকে জানিয়ে দিয়েছেন। সেই বার্তা পাওয়ার পর সিইসি গতকাল (২৯ জুন, ২০২৫) অফিসে আসেননি। যদিও ইসি সচিব জানিয়েছেন যে, সিইসি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।
গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সিইসির বৈঠক হওয়ার পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে, গতকাল নির্বাচন কমিশনে বৈঠক হবে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো আলোচনা হবে। কিন্তু তা ঘটেনি। এমনকি সিইসি নির্বাচন ভবনেও আসেননি, যদিও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা অফিসেই ছিলেন। সিইসির অনুপস্থিতি নিয়ে ইসির কর্মকর্তা ও মিডিয়া কর্মীদের মধ্যে সারাদিন কৌতূহল ছিল। অনেকেই এটিকে ‘পলিটিকো অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সিকনেস’ হিসেবে দেখছেন। সিইসির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সিইসি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি সিইসির দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেন, “আমাদের সবার প্রত্যাশা সিইসি দ্রুত সুস্থ হয়ে অফিসে আসবেন।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ নভেম্বর (২০২৪) সাবেক সচিব এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এই কমিশনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন সাবেক জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমানেল মাছউদ, সাবেক যুগ্ম সচিব বেগম তাহমিদা আহমদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সার্চ কমিটির প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে রাষ্ট্রপতি এই পাঁচজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার হিসেবে বেছে নেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত বছরের ২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আলাদা প্রজ্ঞাপনে তাদের নাম প্রকাশ করে। এরপর ২৪ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ও চারজন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) শপথ নেন।
দেশের চতুর্দশ সিইসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নাসির উদ্দিন এক সময় সচিব ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি তাকে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল। পরে তাকে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গঠিত কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করে। তাদের অধীনেই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জনের মধ্যে সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসে। তবে, এর আট মাসের মাথায় গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।



















