ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় দেশের রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি, গণ অধিকার পরিষদ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন পৃথক সভা-সমাবেশে হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
নয়াপল্টনে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, হাদির ওপর হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং এটি গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে হাদিকে দেখতে গিয়ে যারা মব সৃষ্টি করেছে তারা বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের লোক এবং তারা হাদির মৃত্যু কামনা করেছিল। এ ধরনের অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়া সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত করার জন্য কেউ কি পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে? একই সঙ্গে হাদির ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ করেন তিনি।
এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দাবি করেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুর্বৃত্তরাই হাদির ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানান।
শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, হাদিকে হত্যা করে দেশকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এতে তার চেতনা আরও বিস্তৃত হবে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, হাদির ওপর হামলা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে।
এদিকে ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিক সমাবেশ ও গণপ্রতিরোধ’ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা হামলাকে ‘ফ্যাসিস্ট ও আধিপত্যবাদী শক্তির প্রভাবের ফল’ বলে আখ্যা দেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে ঝালকাঠি, কক্সবাজার, বরিশাল, সিলেট, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর, বগুড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, খুলনা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে হাদির সর্বোত্তম চিকিৎসা ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীসহ সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


















