চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার থেকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তারা আপিল করতে পারবেন।
সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ১৭ নভেম্বর একই মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। একই রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজসাক্ষী হিসেবে সাবেক আইজিপি আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বিচারক মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় দেন। অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মামলার প্রথম ধাপে হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা এবং প্রমাণাদি বিশদভাবে উপস্থাপন করা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনা ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি এই নির্দেশ পালন করেছেন। রায়ে ভিডিও, অডিও, সাক্ষীর বর্ণনা ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।
রায়ে কোটাসংস্কার আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের হত্যা এবং হত্যার সময় ব্যবহৃত প্রাণঘাতী অস্ত্রের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে এই মামলার ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।



















