দুর্গাপূজা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বাংলাদেশে থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছে পদ্মার ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়।
গত বছর দুর্গাপূজার সময় ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “আপনার হস্তক্ষেপে গত বছর ভারতে ২৪২০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমতি পাওয়া গিয়েছিল। পদ্মার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং ত্রিপুরার মৎস্যপ্রেমীদের কাছে একটি অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার।”
চিঠিতে আসন্ন দুর্গাপূজা-২০২৫ (সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য) উপলক্ষে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, আগের বছরগুলোতে অনুমোদিত ইলিশের পুরো পরিমাণ রপ্তানি করতে না পারার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ জানিয়েছে, “২০২৩ সালে ৩,৯৫০ মেট্রিক টনের মধ্যে মাত্র ৫৮৭ মেট্রিক টন, ২০২২ সালে ২,৯০০ মেট্রিক টনের মধ্যে ১,৩০০ মেট্রিক টন এবং ২০২১ সালে ৪,৬০০ মেট্রিক টনের মধ্যে ১২০০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রপ্তানি করা হয়েছিল।”
সংগঠনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে অনুমোদিত পরিমাণের সম্পূর্ণ রপ্তানি না হওয়ার কারণ হিসেবে ৩০ থেকে ৪৫ দিনের সীমিত সময়সীমাকে দায়ী করা হয়েছে। তারা অনুরোধ করেছেন, “দয়া করে কোনো সময়সীমা ছাড়াই ইলিশ মাছ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হোক।”
চিঠির শেষে, ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে এবং বর্তমান সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে আরও শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।



















