হাজিদের সুরক্ষায় সৌদি আরবের নজিরবিহীন অভিযান: অবৈধ হজ এজেন্সি ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, ব্যাপক গ্রেফতার
রিয়াদ, ৮ জুন, ২০২৪: পবিত্র হজ পালনের প্রাক্কালে হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রোধে সৌদি আরব চলতি বছর অভূতপূর্ব কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভুয়া হজ এজেন্সি ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক ব্যাপক অভিযানে জড়িত অসংখ্য ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ, ৮ জুন, গালফ নিউজের এক বিস্তারিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪৩৬টি অবৈধ হজ ক্যাম্পেইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা হজকে ঘিরে প্রতারণার জাল কীভাবে বিস্তার লাভ করেছিল তার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। একই সাথে, এসব প্রতারণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশব্যাপী অভিযানে কমপক্ষে ৪৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র কর্নেল তালাল আল শালহুব এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “হাজিদের নিরাপত্তা এবং তাদের পবিত্র ধর্মীয় আচার নির্ভয়ে ও সুচারুভাবে পালনের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সেসব ব্যক্তি যারা অননুমোদিত হজ ক্যাম্পেইন প্রচার করছিলেন এবং যাদের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না, তবুও তারা পবিত্র স্থানে প্রবেশে হাজিদের সহায়তা করছিলেন।
অভিযানে আরও একটি গুরুতর চিত্র উঠে এসেছে। হজ অনুমতি ছাড়া মক্কায় ১৯৯ জনকে অবৈধভাবে পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ৪৯টি আলাদা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে ১৮ জন প্রবাসী এবং ৩১ জন সৌদি নাগরিক রয়েছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই জালিয়াতির জাল দেশের ভেতর এবং বাইরে উভয় স্থানেই বিস্তৃত ছিল।
এই অপরাধের জন্য সৌদি সরকার কঠোর শাস্তির বিধান রেখেছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের ১ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত বিশাল অংকের জরিমানা, কারাদণ্ড, অ-সৌদিদের জন্য দেশ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং ১০ বছরের জন্য সৌদিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো দণ্ড হতে পারে। এছাড়াও, অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহনগুলো বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রয়েছে। অন্যদিকে, যারা অনুমোদন ছাড়া হজ পালনের চেষ্টা করবেন, তাদেরও ২০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
এছাড়া, আরেকটি পৃথক অভিযানে অনুমতি ছাড়া মক্কায় প্রবেশের চেষ্টাকালে ৫৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সবাইকে আইনি ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে, সৌদি সরকার পবিত্র হজকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি বরদাশত করবে না এবং হাজিদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন হজ পালনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।



















