ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এ এক অবিশ্বাস্য রাত! স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছিল বাংলাদেশের করা পাহাড়সম ১৯৬ রান। ইমন ও তানজিদের ব্যাটে চড়ে জয়ের পথেই হাঁটছিল টাইগাররা। অথচ, কে জানত, বিধ্বংসী মোহাম্মদ হারিসের একক হাতেই লেখা হবে টাইগারদের হোয়াইটওয়াশ হওয়ার লজ্জার উপাখ্যান! লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেটে ১৯৬ রান করেও ৭ উইকেট ও ১৬ বল হাতে রেখেই পাকিস্তানের কাছে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে।
পাকিস্তানের ইনিংস: হারিসের তাণ্ডব
বাংলাদেশের দেওয়া ১৯৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। মেহেদী মিরাজের ঘূর্ণিতে প্রথম ওভারেই রিশাদকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সাহেবজাদা ফারহান। এক ঝলকের জন্য মনে হয়েছিল, বুঝি ভাগ্য সহায় হচ্ছে টাইগারদের। কিন্তু সেই চাপ সামলে নেন সাইম আইয়ুব ও মোহাম্মদ হারিস। এই দুই ব্যাটসম্যান মিলে ৯২ রানের এক বিধ্বংসী জুটি গড়েন। আইয়ুব ২৯ বলে ৪৫ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে আউট হলেও, হারিসের ব্যাট থেকে যেন বেরিয়ে আসে আগুনের ফুলকি!
হারিস মাত্র ৪৫ বলেই তার শতক হাঁকান! অবিশ্বাস্য এই ইনিংসে ৪৬ বলে অপরাজিত ১০৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে, যেখানে ৮টি চারের পাশাপাশি ছিল ৭টি বিশাল ছক্কা। মনে হচ্ছিল, একা হাতেই যেন তিনি লড়ছেন গোটা বাংলাদেশের সাথে। চারে নেমে মোহাম্মদ নওয়াজও হারিসের সাথে যোগ দেন এবং তিনিও বেধড়ক পেটাতে থাকেন। নওয়াজ ১৩ বলে ২৬ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে বিদায় নিলেও, ততক্ষণে ম্যাচ বাংলাদেশের হাতের নাগালের বাইরে চলে যায়। অধিনায়ক সালমান আঘা ১২ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থেকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন পাকিস্তানকে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মিরাজ ২ উইকেট পেলেও, তানজিম সাকিব পেয়েছেন মাত্র একটি উইকেট। হারিসের এমন তাণ্ডবের সামনে যেন অসহায় আত্মসমর্পণ করলেন টাইগার বোলাররা।
বাংলাদেশের ব্যাটিং: পাহাড়সম পুঁজি গড়ার পর
এর আগে, টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ও পারভেজ ইমনের ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৬ রানের বিশাল পুঁজি গড়ে টাইগাররা। ইমন ৩৪ বলে খেলেন ৬৬ রানের এক অসাধারণ ইনিংস, আর তানজিদ ৩২ বলে করেন ৪২ রান। এছাড়াও হৃদয় ২৫ ও অধিনায়ক লিটন ২২ রান করে দলের সংগ্রহে অবদান রাখেন। পাকিস্তানের হয়ে হাসান আলী ও আব্বাস আফ্রিদি ২টি করে উইকেট শিকার করেন।



















