জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রায় দেন। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রায় ঘোষণার পর শহীদ আবু সাঈদের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বড় ভাই রমজান আলী এবং বাবা মকবুল হোসেন রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য দাবি জানান। মা মনোয়ারা বেগম বলেন, “দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।”
মামলার তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন পলাতক। গ্রেফতার একমাত্র আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পান। তার স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘লেথাল উইপন’ ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা, যা আসাদুজ্জামান খানের মাধ্যমে কার্যকর হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় দেড় হাজার নিরীহ ছাত্র ও সাধারণ মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজার আহত হয়। মামলায় পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ এবং শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনা।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় দেশে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়, যা শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিকে নিয়ে যায়।



















