শনিবার , ২৪ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ইউরোপজুড়ে তরুণদের বিক্ষোভ, বাড়ছে সরকারবিরোধী ক্ষোভ

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ২:০৯ অপরাহ্ণ

Spread the love

ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে ছড়িয়ে পড়ছে বিক্ষোভ। এসব আন্দোলন পরিচিতি পেয়েছে ‘জেন-জি বিক্ষোভ’ নামে। শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক অধিকারসহ নানা দাবিতে রাজপথে নামছেন তরুণেরা। দেশভেদে আন্দোলনের কারণ ভিন্ন হলেও এর কেন্দ্রে রয়েছে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের প্রতি অসন্তোষ।

ফ্রান্সে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে বিদ্যালয়গুলোর অবনতিশীল পরিস্থিতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে এসব কর্মসূচিতে পাঁচ লাখ থেকে আট লাখ মানুষ অংশ নেন।

ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ’ আন্দোলন জোরালো চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি মানুষের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ার মধ্যে গত সপ্তাহে আন্দোলনটির নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

স্পেনেও আবাসনসংকট এবং উচ্ছেদের হাত থেকে পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ আইন নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ৮৭ বছর বয়সী মারিকারমেন আবাসকালকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার একটি জনপ্রিয় আইন প্রস্তাব পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগাম নির্বাচনের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। উচ্ছেদের দুই সপ্তাহ পর মারা যান মারিকারমেন।

২০০৮ সালের সংকটের পর বেড়েছে বৈষম্য

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউরোপজুড়ে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর থেকে আয় ও সম্পদের বৈষম্য বেড়েছে। একই সঙ্গে দুর্বল হয়েছে একসময় শক্তিশালী বলে বিবেচিত কল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা।

একসময় ইউরোপের দেশগুলো সবার জন্য মানসম্মত সরকারি সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিত। এর লক্ষ্য ছিল মানুষের জীবনযাপনের ন্যূনতম মান বজায় রাখা এবং প্রত্যেকের যোগ্যতা অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

কিন্তু বছরের পর বছর সরকারি ব্যয় সংকোচনের ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জনসেবা দেওয়ার সক্ষমতা কমেছে। এতে আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরা বেসরকারি খাত থেকে উন্নত সেবা নিতে পারলেও অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ পরিস্থিতির চাপ তরুণদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে। অনেক তরুণের কাছে তাঁদের বাবা-মা ও দাদা-দাদির প্রজন্মের তুলনায় ভালো জীবন গড়ার সুযোগ এখন সীমিত বলে মনে হচ্ছে।

দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থা ও এআইয়ের প্রভাব

শিক্ষাব্যবস্থায় পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব তরুণদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কর্মসূচি—পিসার ফলাফলে পড়া ও গণিতের দক্ষতা কমে যাওয়ার যে চিত্র উঠে এসেছে, তার পেছনে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবও এ পরিস্থিতির সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

এ ছাড়া দ্রুত বিস্তৃত হওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার শিক্ষার মান এবং কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা ও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারের ধীরগতির সমালোচনা রয়েছে। প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলোর তদবিরও নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

কর্মক্ষেত্রেও এআই নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। অনেক প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় অভিজ্ঞতাহীন তরুণদের চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবাসনসংকটে পিছিয়ে তরুণ প্রজন্ম

আবাসনসংকটও তরুণদের বড় উদ্বেগের কারণ। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণদের আয়ের বড় অংশ বাড়িভাড়া মেটাতে ব্যয় হচ্ছে। ফলে বাড়ি কেনা তো দূরের কথা, নিয়মিত আয় দিয়ে ভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্পেনের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখিয়েছে, আবাসনসংকট শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; এটি সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।

আবাসনের সরবরাহ বাড়ানো, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্ছেদের বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা সংকটকে আরও গভীর করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ।

জলবায়ু সংকট বাড়াচ্ছে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

জলবায়ু পরিবর্তনও তরুণদের উদ্বেগের অন্যতম বড় কারণ। আন্তসরকার জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেল—আইপিসিসির প্রতিবেদনগুলোতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বৈষম্য কম এমন সমাজ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকতে পারে। কারণ এসব সমাজে সম্মিলিত উদ্যোগ, সামাজিক সুরক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলার সুযোগ বেশি থাকে।

অন্যদিকে, বৈষম্যপূর্ণ সমাজে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার দায়িত্ব অনেকাংশে ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর পড়ে। এতে আর্থিকভাবে দুর্বল জনগোষ্ঠী আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

বিক্ষোভ দমনে কঠোরতা, বাড়তে পারে ক্ষোভ

শিক্ষা, কর্মসংস্থান, আবাসন ও জলবায়ু সংকটের পাশাপাশি সরকারি সেবা দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাওয়ায় তরুণদের অসন্তোষ আরও তীব্র হচ্ছে। প্যারিস, নয়াদিল্লি, রোম ও মাদ্রিদসহ বিভিন্ন শহরে সেই ক্ষোভের প্রকাশ ঘটছে।

বিক্ষোভের জবাবে অনেক সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিক্ষোভবিরোধী আইন প্রয়োগ, গ্রেপ্তার এবং পুলিশের বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা বাড়ছে। এসব পদক্ষেপ কখনো আন্দোলন দুর্বল করলেও কখনো বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফ্রান্স ও ভারতের পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেলজিয়াম ও পর্তুগালেও ক্ষোভ

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধন ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া ও আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিয়েজেও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে, পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি ও আবাসনসংকটের প্রতিবাদে হাজারো মানুষ মিছিল করেছেন। ২০১৭ সালের পর থেকে দেশটিতে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। নতুন চুক্তিতে বাসাভাড়াও প্রায় একই হারে বেড়েছে।

পর্তুগালের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কার্লোস আব্রেউ আমোরিম বলেছেন, রাস্তায় স্লোগান দিয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করা যাবে না। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশের নেতারা সাধারণ মানুষের সমস্যার বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন।

ইতালিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

ইতালির মিলানে যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে একটি মিছিল শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ও বিভিন্ন বস্তু ছোড়েন। পাশাপাশি ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। ইতালির বার্তা সংস্থা লাপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে, যাঁদের অনেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিক্ষোভ করা অধিকার, কিন্তু শহরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া নয়। মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালাও বিক্ষোভের পেছনের কারণগুলো বোধগম্য বলে মন্তব্য করেন। তবে পুলিশের ওপর হামলা ও শহরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান তিনি। বোলোনিয়াতেও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের পাশাপাশি পাথর নিক্ষেপ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

আরও দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে আন্দোলন

প্যারিসের এইচইসি বিজনেস স্কুলের ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন ও নীতিবিষয়ক অধ্যাপক আলবের্তো আলেমান্নোর মতে, ফ্রান্স বর্তমানে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হলেও অন্যান্য দেশেও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। গ্রিস, জার্মানি ও অস্ট্রিয়াতেও আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ের ইঙ্গিত রয়েছে।

তাঁর মতে, এসব বিক্ষোভ একই আন্দোলনের অংশ নয়; বরং একই সময়ে বিভিন্ন দেশে দেখা দেওয়া পৃথক প্রতিবাদ। তবে শিক্ষায় পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পড়াশোনা শেষে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মতো অভিন্ন উদ্বেগ এসব আন্দোলনকে একসূত্রে গেঁথেছে।

আগামী এক বছরে স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি ও পোল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমন সময়ে বিক্ষোভের বিস্তার ইউরোপের রাজনৈতিক আলোচনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সমাধান কোথায়?

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তরুণদের রাজপথে নামার পেছনে থাকা বৈষম্য ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা এখন সবচেয়ে জরুরি। কেবল বিক্ষোভ দমন করে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে না।

এ জন্য মানসম্মত সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, আবাসনসংকট মোকাবিলা, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা জোরদার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

তরুণদের ক্ষোভের পেছনে থাকা সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকারগুলো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এই অসন্তোষ আরও বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। জেন-জি বিক্ষোভ তাই কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ নয়; বরং বৈষম্য, সুযোগের অসমতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে বৃহত্তর সামাজিক অসন্তোষের প্রতিফলন।

সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত