মঙ্গলবার , ১৩ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নতুন প্রকল্প, জোর দেওয়া হচ্ছে সংরক্ষণে

প্রতিবেদক
Sawkat Shihan
অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১২:২৫ অপরাহ্ণ

Spread the love

জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ, আইন প্রয়োগ জোরদার, জাটকা নিধন বন্ধ, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং জেলেদের সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ, নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মৎস্যবিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, একাধিক কারণে ইলিশের উৎপাদন কমছে। তাই টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা।

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার কারণে ইলিশের মতো বিভিন্ন প্রাণিজ সম্পদের উৎপাদনে ওঠানামা হতে পারে। তবে উৎপাদন কমার প্রবণতা মোকাবিলায় সরকার নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। এতে আইন প্রয়োগ, অবৈধ মাছ আহরণ বন্ধ এবং জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তার আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনা শাখার উপপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে সরকার নতুন করে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর মেয়াদ শেষ হলেও নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে। ‘মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণের মাধ্যমে ইলিশের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি বলেন, নতুন প্রকল্পে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে ভিজিএফ সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজার করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

চলতি বছরও ইলিশ আহরণের পরিমাণ কমের দিকে রয়েছে উল্লেখ করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বাস্তুতন্ত্র ও প্রাকৃতিক বিভিন্ন প্রক্রিয়ার কারণে উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। তবে সরকারি উদ্যোগের ফলে আগামী বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি সবার দায়িত্ব। সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে জেলেরা এর সুফল পাবেন।

তিনি বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ ও ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে যেকোনো মূল্যে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখতে হবে।

উৎপাদন কমার পেছনে একাধিক কারণ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাসুদ রানা মনে করেন, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে একক কোনো কারণ দায়ী নয়। জাটকা আহরণ, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা, ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার, নদীর নাব্যতা হ্রাস, পানিদূষণ, পানিপ্রবাহের পরিবর্তন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং সমুদ্রে অতিরিক্ত মাছ ধরার চাপ—সব মিলিয়ে ইলিশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ২৯ হাজার টন। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ২০ হাজার ৬৮০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন কমে প্রায় ৫ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম। কয়েক বছর ধরে উৎপাদন বাড়ার পর এই পতন ইলিশসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

ড. মাসুদ রানা বলেন, সরকারি নথিতে শিল্প ট্রলারের জন্য ৪০ মিটার গভীরতার বাইরে মাছ ধরার বিধান রয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে নির্ধারিত গভীরতা অঞ্চলের ভেতরে ট্রলিংয়ের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ও অনুপযুক্ত জাল ব্যবহারের কারণে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের মাছ একসঙ্গে ধরা পড়ে। ফলে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রজননক্ষম হওয়ার আগেই আহরিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে কঠোরতা জরুরি

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মা ইলিশ রক্ষার কার্যকর উদ্যোগকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ড. মাসুদ রানার মতে, প্রজননক্ষম মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে পরবর্তী প্রজন্মের বিপুলসংখ্যক ইলিশ জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এ জন্য শুধু নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলেই হবে না; নদীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল, নৌযান পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে।

তিনি বলেন, নদীতে বর্জ্য ফেলা, পানিদূষণ, নাব্যতা হ্রাস এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। কোথায় ইলিশ বেশি ডিম ছাড়ে, কোন সময়ে নদীতে আসে এবং পরিবেশগত পরিবর্তন কীভাবে প্রজননে প্রভাব ফেলে—এসব তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করতে হবে।

বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল ওহাব বলেন, দেশে গত দুই বছর ধরে ইলিশের উৎপাদন কমছে। ২০১৬ সালে ৩ লাখ ৯৬ হাজার টন উৎপাদনের মধ্য দিয়ে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা শুরু হয়েছিল। এরপর প্রতি অর্থবছরে উৎপাদন ১০ থেকে ২০ হাজার টন করে বেড়েছে। তবে সাম্প্রতিক দুই বছরে সেই ধারায় ছেদ পড়েছে।

তাঁর মতে, প্রতিবছর সাড়ে ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ টন ইলিশ আহরণ করা হলে তা টেকসই উৎপাদনের সীমার মধ্যে থাকতে পারে। উৎপাদন কমার পেছনে প্রধান দুটি কারণ হলো প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা এবং নির্বিচারে জাটকা নিধন।

অধ্যাপক আব্দুল ওহাব বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় অক্টোবরে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা এখনো কার্যকর। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নিষেধাজ্ঞার সময় কিছুটা পরিবর্তন করা প্রয়োজন কি না, তা গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করা উচিত।

অতীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কয়েকটি উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রেখেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ২২ দিন মা ইলিশ সংরক্ষণ, আট মাস জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ রাখা, মার্চ ও এপ্রিলে অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা, সাড়ে ৬ সেন্টিমিটারের কম ফাঁসের জাল নিষিদ্ধ করা এবং নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের চালসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া। ২০০৫ সালে নির্ধারিত পাঁচটি অভয়াশ্রমের সীমানা পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্নির্ধারণও এখন জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের ভাষ্য, পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ডিম ছাড়ার পর মার্চ-এপ্রিলে জাটকা ঝাঁকে ঝাঁকে সাগরের দিকে যেতে থাকে। এ সময় নদীতে নিষিদ্ধ জাল এবং উপকূলীয় সাগরে অগভীর পানিতে মাছ ধরা ট্রলারের মাধ্যমে ব্যাপক হারে জাটকা আহরণের ঝুঁকি থাকে। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় না। এ জন্য জাটকা নিধনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নদী দখল, দূষণ ও নাব্যতা সংকটও ইলিশের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার পরামর্শ

ইলিশের প্রজনন, বিচরণ ও নার্সারি ক্ষেত্র সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ড. মাসুদ রানার মতে, স্যাটেলাইট ও জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের বিচরণক্ষেত্র এবং প্রজনন এলাকা চিহ্নিত করা যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, নদীর প্রবাহ ও অন্যান্য পরিবেশগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইলিশের সম্ভাব্য চলাচল ও সমাগমের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব।

এ ছাড়া নদী ও মোহনায় আইওটি সেন্সরের সাহায্যে পানির গুণাগুণ তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, ডিএনএ ও হাইড্রোঅ্যাকুস্টিক প্রযুক্তিতে ইলিশের উপস্থিতি ও মজুত নির্ণয় এবং ড্রোন ও এআইভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

জিপিএসভিত্তিক নৌযান পর্যবেক্ষণ, স্মার্ট ফিশিং গিয়ার, ডিজিটাল ক্যাচ ডেটাবেজ এবং জলবায়ু পরিবর্তনভিত্তিক পূর্বাভাসব্যবস্থা চালু করা হলে ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এসব প্রযুক্তির সমন্বয়ে ‘স্মার্ট হিলসা ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে প্রাকৃতিক মজুত সংরক্ষণ ও টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

নদীর প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব

ভারতের গুজরাট রাজ্যের নর্মদা নদীর মোহনা ও ভরুচ অঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিবৃষ্টির ফলে মিঠাপানির প্রবাহ বৃদ্ধি, মোহনা অঞ্চলে লবণাক্ততার পরিবর্তন এবং ইলিশের চলাচলের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মতো বিষয়গুলো সেখানে উৎপাদনের ওঠানামায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব কারণের প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ড. মাসুদ রানা বলেন, গুজরাটে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণে আরও গবেষণার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও গুজরাটের নদী এবং মোহনা অঞ্চলের পরিবেশগত তুলনামূলক বিশ্লেষণ দরকার। বাংলাদেশের পদ্মা, মেঘনা, তেঁতুলিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ নদী অববাহিকায় স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখা এবং মোহনা ও উপকূলীয় পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

ইলিশের খাদ্যপ্রাপ্যতাও উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় ইলিশের খাদ্যতালিকায় ২৭ প্রজাতির উদ্ভিদকণা ও ১২ প্রজাতির প্রাণিকণার কথা উঠে এসেছে। গবেষণায় মেঘনা নদীতে এসব খাদ্যকণার পরিমাণ ৬৮ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে নদীদূষণকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলমের গবেষণায়ও পদ্মা ও মেঘনার মোহনায় ইলিশের প্রয়োজনীয় খাদ্যকণা কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এর প্রভাব ইলিশের শারীরিক বৃদ্ধি ও আকৃতির ওপরও পড়তে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

জেলেদের জীবিকা ও সংরক্ষণে সমন্বয় প্রয়োজন

মৎস্যবিজ্ঞানীদের বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে উপকূলের জেলেদের অভিজ্ঞতারও। বিষখালী নদীতে মাছ ধরা কয়েকজন জেলে—মো. লিটন হোসেন, মো. কাইয়ুম ও নিরু খানের ভাষ্য, ইলিশের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার পরপরই সূক্ষ্ম জাল দিয়ে সেগুলো ধরে ফেলা হয়। স্থানীয়ভাবে ‘চাপিলা মাছ’ নামে বিক্রি হওয়া ছোট মাছের পাশাপাশি তুলনামূলক বড় জালের মাধ্যমে জাটকাও ধরা হচ্ছে। পরে ট্রলিং ট্রলার ও কাঠের রূপান্তরিত ট্রলারে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ বেহুন্দি জালে বিপুলসংখ্যক মাছ ধরা পড়ে। এতে ইলিশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগ কমে যায়।

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা ছাড়াও নোয়াখালীর হাতিয়া, ভোলা এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ইলিশ আহরণের কথাও জানিয়েছেন জেলেরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে জীবিকার প্রয়োজনে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে পারেন। তাই সংরক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে জেলেদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

অর্থনীতি ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ

ইলিশ বাংলাদেশের অর্থনীতি, উপকূলীয় জনগোষ্ঠী এবং মৎস্যনির্ভর মানুষের জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। প্রায় ছয় লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণের কাজে নিয়োজিত। পরিবহন, বাজারজাতকরণ, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইলিশে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য উপকারী। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৪’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠাপানির মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় এবং চাষের মাছ উৎপাদনে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। ইলিশ আহরণেও বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট ইলিশ বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

সব মিলিয়ে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে শুধু নিষেধাজ্ঞা বা অভিযান জোরদার করাই যথেষ্ট নয়। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, পানিদূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ, অবৈধ জাল ও ট্রলিং বন্ধ, গবেষণা বৃদ্ধি এবং জেলেদের সহায়তা—সব উদ্যোগকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিয়মিত তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে ইলিশসম্পদের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

‘মাননীয়’ বাদ দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম, ডিজিটাল হাজিরাও দিলেন প্রধানমন্ত্রী

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি প্রস্তুত

উত্তরায় সানজিদ হত্যা মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষকদের সম্মানী পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

রমনা থানায় আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দালালমুক্ত সেবার নির্দেশ

সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়াবহতা: নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া

নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা জড়িত

নতুন উড়োজাহাজ এলে ঢাকা-রোম রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা

আওয়ামী লীগ চোরের খনি: প্রিন্স