যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে দরপতনের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ারসূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০ প্রায় ০.৫ শতাংশ এবং প্রযুক্তি খাতনির্ভর নাসডাক প্রায় ১.৩ শতাংশ কমেছে। এশিয়ার বড় সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর আয় সন্তোষজনক হলেও বিশ্বজুড়ে চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা গেছে।
ব্রেন্ট তেলের দাম বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি
সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪.০৮ ডলার বা ৪.১ শতাংশ বেড়ে ১০৪.২৮ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তেলের বাজারে চাপ তৈরি করেছে। সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে।
ইউরোপের শেয়ারবাজারেও দরপতন
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপের পুঁজিবাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সরকারি ঋণ ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে ইউরোপের সামগ্রিক সূচক স্টকস ৬০০ কমেছে ০.৭৫ শতাংশ। ফ্রান্সের প্রধান শেয়ারসূচক ক্যাক ৪০ কমেছে ০.৫ শতাংশ।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকলে পরিবহন, উৎপাদন ও অন্যান্য খাতের ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এতে পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির চাপও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।


















