দেশের উন্নয়ন ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করতে এনজিও, বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা জরুরি বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এ লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) সম্মেলন কক্ষে ‘বিদেশ নির্ভরতা পেরিয়ে: বাংলাদেশে এনজিও অর্থায়নের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু বলেন, সরকারের বিভিন্ন সেবা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এনজিওগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে উদ্ভূত বিভিন্ন সংকটের সমাধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
‘আমরা শুধু শুনতে চাই না, কার্যকর রেসপন্স করতে চাই’—উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানব উন্নয়ন, স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত কাঠামো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এনজিও ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এই অংশীদারিত্বকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
এনজিওগুলোর টেকসই অর্থায়নের পথ সুগম করতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই।
ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের তাগিদ
স্থানীয় কারুশিল্পের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, শীতলপাটিসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে আধুনিক ডিজাইন, মূল্য সংযোজন ও কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সঙ্গে আধুনিক বাজারের চাহিদার সমন্বয় ঘটাতে পারলে এসব খাতে নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চার শর্ত পূরণে প্রকল্প অনুমোদন
প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অর্থমন্ত্রী। এগুলো হলো—‘ভ্যালু ফর মানি’, বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন, কর্মসংস্থান বা উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা ও সুরক্ষা।
তিনি বলেন, কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে এসব শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। শর্তগুলো পূরণ না হলে প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না।
সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


















