শনিবার , ৩ অক্টোবর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ইরানে ফের হামলার হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় মার্কিন রণতরী

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে ফের সামরিক হামলার সম্ভাবনার কথা বলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট-এর নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা ও নৌসদস্য ওই অঞ্চলে পাঠানো হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নতুন এই বাহিনী নভেম্বরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে পারে। এতে ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরী ও দুটি উভচর হামলা সক্ষমতা সম্পন্ন নৌবহর অবস্থান করতে পারে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ও ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাধারণত দায়িত্ব পালন করা জর্জ ওয়াশিংটনকে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে নেওয়ার পর তার জায়গায় জর্জ ওয়াশিংটন মোতায়েন করা হয়।

নতুন বাহিনী যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়বে। মার্কিন কর্মকর্তাদের হিসাবে, অতিরিক্ত প্রায় ৯ হাজার সেনা পাঠানো হলে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজারে পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে শত শত যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামও থাকবে।

ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান থেকে দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইরানও জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক জবাব পেয়েছে। তবে সেই জবাবের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ব্যাপকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং এ কারণেই তারা দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইছে।

এর আগে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত নির্বাচন পরবর্তী সময়ে, এমনকি তারও আগে শেষ হতে পারে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ করার কথাও জানিয়েছেন।

ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত

অন্যদিকে, ইসরাইলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলটের হাতে ক্যাপ্টেন ছুরিকাহত হওয়া এবং বিমানটি বিধ্বস্তের চেষ্টার ঘটনায় ইরানের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে হামলা করেন এবং বিমানটি বিপজ্জনকভাবে নিচে নেমে যায়। পরে ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে যাত্রী ও অন্য পাইলটরা হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুকের একটি বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামলাকারীর সঙ্গে ইরানের কোনো ধরনের যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে ওই ব্যক্তির যোগাযোগ থাকতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবেও তিনি সম্ভাবনাটি উড়িয়ে দেননি।

ইরানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ার হুমকি দেন।

তবে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটির তদন্তে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

নতুন করে মার্কিন সামরিক শক্তি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত এবং ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত