বৃহস্পতিবার , ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

গণঅভ্যুত্থানে লুট হওয়া অস্ত্রের রমরমা বাণিজ্য

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৮:০৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় মোট ৫ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে গত ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫৩টি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ১ হাজার ৩১০টি অস্ত্র এখনো পুলিশের নাগালের বাইরে রয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লুট হওয়া এসব অস্ত্রের কিছু অংশ ইতোমধ্যে অপরাধী চক্রের হাতে পৌঁছে গেছে। আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও টার্গেট কিলিংসহ বিভিন্ন অপরাধে এসব অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে লুটের অস্ত্র ভাড়া ও বিক্রির একটি চক্রও সক্রিয় রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।

গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর গাবতলীতে এমনই একটি ঘটনায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সাজ্জাদ হোসেন আশিক নামে এক যুবক। বেপরোয়া গতিতে চলা একটি হলুদ স্পোর্টস কারকে থামার সংকেত দিলে সেটি না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ধাওয়া করলে একপর্যায়ে গাড়িটি থেমে যায়। তখন গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করা আশিককে আটক করা হয়। তবে গাড়িতে থাকা অপর যুবক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

আশিকের দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে—উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি পুলিশের ব্যবহৃত সেমি অটোমেটিক ৯ এমএম অস্ত্র। এতে ‘মেড ইন ব্রাজিল’ ও ‘বিপি-এমটিসিএল’ লেখা ছিল। এমন অস্ত্র পুলিশের উপপরিদর্শক থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ব্যবহার করেন।

তদন্তকারীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি, অস্ত্রটি ঠিক কোন থানা থেকে লুট হয়েছিল। তবে গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাসিন্দা শাহরিয়ার চৌধুরী ধানমন্ডিতে একটি গ্রুপের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায় ৪ লাখ টাকায় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছ থেকে অস্ত্রটি কিনেছিলেন। পরে শাহরিয়ার দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় অস্ত্রের মূল উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ২ মার্চ রাজধানীর স্বামীবাগ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানকে গুলি করার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সূত্র ধরে শীর্ষ মাদক কারবারি অটো সজলের নাম সামনে আসে। পরে অটো সজল, তার ভাই সজীবসহ চক্রের আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে আরও ছয়টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে চারটি ওয়ারী থানা থেকে লুট হওয়া। জিজ্ঞাসাবাদে অটো সজল সম্পর্কে পুলিশ জানতে পারে, তিনি লুট হওয়া অস্ত্র অপরাধীদের কাছে উচ্চমূল্যে ভাড়া দিতেন।

এখনো উদ্ধার হয়নি ১,৩১০ অস্ত্র

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখনো উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০৯টি চায়না রাইফেল, একটি বিডি রাইফেল, ৩০টি এসএমজি, তিনটি এলএমজি, ২০৩টি ৭.৬২ চায়না পিস্তল, ৪৪৩টি ৯ এমএম পিস্তল, ৩৮৪টি ১২ বোর শটগান, ১২৮টি গ্যাস গান, সাতটি গ্যাস লঞ্চার এবং দুটি ২৬ মিমি সিগন্যাল পিস্তল।

এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জামও এখনো উদ্ধার হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮০০টি গুলি, ১১ হাজার ৩৯১টি টিয়ার গ্যাস সেল, ২৯১টি টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড, ১ হাজার ১৬৮টি সাউন্ড গ্রেনেড, ৪১টি কালার স্মোক গ্রেনেড, ২২টি সেভেন/মাল্টিপল ব্যাং স্টান গ্রেনেড, ২৮৪টি ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড এবং ১১৬টি হ্যান্ডহেল্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে।

লুটের অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে র‌্যাবের নেতৃত্বে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ অভিযানে এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, অস্ত্র বাইরে থাকলে সেগুলোর কেনাবেচা ও অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকেই। বিভিন্ন ধরনের তৎপরতার তথ্যও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে। অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে এগোলেও সমন্বিত অভিযান জোরদার হলে সফলতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশের ত্রৈমাসিক অপরাধ সভার উদ্বোধন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধান বা তথ্য দিয়ে উদ্ধারে সহায়তা করলে ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, অবশিষ্ট অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে এসব অস্ত্র অপরাধী চক্রের হাতে গিয়ে জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সর্বশেষ - অপরাধ