বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরে নিতে জোরালো আগ্রহ দেখাচ্ছে দিল্লি। তবে সম্ভাব্য এই সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএএম সালেহ জানিয়েছেন, সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি ই-মেইলকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সেখানে রাষ্ট্রপতি ভবনের সাপ্তাহিক ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান বাতিলের কারণ হিসেবে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানোর মহড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ই-মেইলটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে এর মধ্যেই সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর সরকার গঠন করেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম ভারত সফর। দিল্লির প্রত্যাশা, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন কমিয়ে সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়টি। বাংলাদেশ তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা বিবেচনা করছে।
হাসিনার বিষয়টি জটিলতা তৈরি করলেও তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের পক্ষ থেকে সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ভারতীয় পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে সফরে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের গুরুত্ব শুধু রাজনৈতিক কারণে নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের দীর্ঘ সীমান্ত, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ—সব মিলিয়ে ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক দিল্লির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করায় বিষয়টি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও স্পর্শকাতর। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়ে হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানান। তার বক্তব্যের পর ঢাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
এদিকে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও আগের তুলনায় ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগও দিল্লির নজরে রয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলোর নতুন প্রতিরক্ষা উদ্যোগ ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়েও বাংলাদেশে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি। তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর হলে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং আঞ্চলিক কূটনীতির নানা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ভারত আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে—সেখানেও দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


















