নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানি বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ৫৭৯ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ পর্যটক। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ৬৪, ধাদিংয়ে ২৭, নাওয়ালপরাসি ইস্টে ২২, গোরখায় ১৯, নুওয়াকোটে ১৩, তানাহুনে ৯ এবং রাসুয়ায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নেপাল পুলিশের ২৮ সদস্যও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ ৫৭৯ জনের মধ্যে ৪৬৬ জন ২৮টি দেশের বিদেশি নাগরিক এবং ১১৩ জন নেপালি। বিদেশিদের মধ্যে ৫৪ জন মার্কিন, ৩৩ জন ব্রিটিশ এবং ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজদের জাতীয়তা ও পরিচয় শনাক্তের কাজ অব্যাহত থাকায় এ সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগে আহত ৪১ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যোগাযোগ অবকাঠামোয়। অন্তত ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় এখনো ঝুঁকি রয়েছে। রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, গোরখা ও চিতওয়ান জেলার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলাচল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক বিশ্লেষণে জানা গেছে, রাসুয়া-রাসুওয়াগাধি সীমান্ত এলাকার কাছে বরফ ও পাথরের ধস থেকে বন্যার সূত্রপাত হয়। ধসের কারণে লহেন্দে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পরে বিপুল পানির স্রোত তিমুরে হয়ে ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে। এতে বিস্তীর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়।
আকাশপথে উদ্ধার ১১৪ জন
দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালি সেনাবাহিনী ও বেসরকারি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ১১৪ জনকে আকাশপথে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী ৮৫ জন এবং বেসরকারি হেলিকপ্টার পরিচালনাকারীরা ২৯ জনকে উদ্ধার করেছে।
দুর্গত এলাকাগুলোকে তিন মাসের জন্য দুর্যোগকবলিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে নেপাল সরকার। আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং আটকে পড়াদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে।
বাড়ছে আন্তর্জাতিক সহায়তা
ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত, চীন ও বিশ্বব্যাংক। জরুরি সহায়তা হিসেবে সর্বোচ্চ ২৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি সংগ্রহের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
ভারত জরুরি ত্রাণসামগ্রীর তালিকা চেয়েছে এবং চীন তাৎক্ষণিক নগদ সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। নেপাল সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা সমন্বয়ের পাশাপাশি উদ্ধার, চিকিৎসা ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : দ্য হিমালয়ান টাইমস


















