শনিবার , ৮ আগস্ট ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

AI নিয়ে উচ্ছ্বাস, বিনিয়োগ বাস্তবতা ও সতর্কতা

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ৮, ২০২৬ ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

বর্তমানে Artificial Intelligence (AI) নিয়ে বিশ্বজুড়ে এক ধরনের উন্মাদনা তৈরি হয়েছে একে সহজ ভাষায় হাইপ তৈরি হয়েছে বলে ও বলা যায়। উন্নত দেশ থেকে শুরু করে গরিব দেশ—সবাই AI গ্রহণের এক ভয়াবহ প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

প্রযুক্তির অগ্রগতি অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু ইতিহাস আমাদের এও শেখায় যে, প্রতিটি নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে হাইপ এবং বাস্তব মূল্যায়ন এক জিনিস নয়, যেমন ফেইসবুক কোম্পানির মেটাভার্স, ট্রিলিয়ন ডলারের অতিরঞ্জিত প্রজেক্ট জাস্ট জলে গেছে!

AI একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি এটি অস্বীকার করার কোন যুক্তি নেই, কিন্তু শুধুমাত্র AI কিনলেই একটি প্রতিষ্ঠান সফল হবে—এমন ধারণা শুধু বিপদজনক ই নয় এ ধারণা একটি প্রতিষ্ঠানকে রাস্তায় বসিয়ে দিতে পারে।

বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির অভিজ্ঞতাও আমাদের সতর্ক করে-

যেমন, গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Ford-এর ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, AI এবং automation-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পর তারা বুঝতে পারে—শুধু প্রযুক্তি দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয় না, তাদের প্রডাকশন লাইআপ ও কোয়ালিটি ভয়াবহ ড্রিগ্রেট করে বসে।

পরে তারা তাদের অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের আবারও কাজে ফেরানোর উদ্যোগ নেয়, এবং বাধ্য হয় তাদের আবারো কোম্পানিতে ফেরাতে।

বাস্তব জ্ঞান এবং মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। ফলে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের গুরুত্ব আবারও সামনে আসে।

বাংলাদেশও এমন উদাহরণ আছে, যেমন অনলাইন কলসেন্টার গুলি Ai এ ইনভেস্ট করে এখন তারা চড়া মাশুল গুনছে। সেবাগ্রহিতারা অনলাইন কলসেন্টারের সেবা থেকে প্রতিনিয়তো মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

দেশের বাস্তবতা আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা এখনো গরিব দেশ, বহু কোম্পানি মাস গেলে ইমপ্লিয়েদের বেতন দিতে পারেনা ঠিকমতো, প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিনিয়োগের প্রতিটি টাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি বাংলাদেশে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও AI integration নিয়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। উদাহরণ হিসেবে, ACI-এর একটি AI integration project-এ ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি বিনিয়োগের কথা জানা যায়। এমন বিনিয়োগ অবশ্যই ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনাময় হতে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে এটি একটি বড় ঝুঁকিও তৈরি করে কারণ Ai এখনো তার এসপেকটেড রেজাল্ট কোথাও দেখাতে পারেনি।

কোটি টাকা খরচ করে AI system তৈরি করলেই সফলতা নিশ্চিত, এটা ভাবা জাস্ট বোকামি।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে Ai যদি কাংক্ষিত ফল বয়ে না আনতে পারে তাহলে এই বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের জন্য বার্ডেন হয়ে যেতে পারে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, AI মানুষের বিকল্প নয়; AI হলো মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি মাধ্যম মাত্র।

তাহলে এখন আমাদের সঠিক পদ্ধতি কি হওয়া উচিত:

আমাদের উচিৎ ছোট পরিসরে Ai কে পরীক্ষা করে বাস্তব ফলাফল পরিমাপ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে অত্যন্ত্য সাবধানে Ai বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা। কারণ প্রযুক্তির ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে যারা শুধু হাইপ অনুসরণ করেছে তারা পিছিয়ে গেছে, আর যারা বাস্তব প্রয়োজন বুঝে প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে তারাই দীর্ঘমেয়াদে সফল হয়েছে।

তাই AI নিয়ে আমাদের মতো গরিব দেশগুলির নীতি হওয়া উচিত:

“AI গ্রহণ করবো, কিন্তু অন্ধভাবে নয়।

বিনিয়োগ করবো , তবে বাস্তব ফলাফল দেখে ও বুঝে।”

কারণ আমরা গরিব দেশ আমাদের ১টাকার মূল্যও অনেক বেশি।

ভবিষ্যৎ শুধু AI-এর নয়, ভবিষ্যৎ তাদের, যারা AI এবং মানুষের দক্ষতাকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারবে।

আল-আমিন নিরব

আইটি প্রফেশনাল

গাজি টেলিভিশন (GTV)

সর্বশেষ - অপরাধ