ইরানের বিরুদ্ধে টানা পাঁচ মাস ধরে চলা তীব্র সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অস্ত্রাগারে থাকা প্রায় সব অত্যাধুনিক ও নিখুঁত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে বলে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে। ঘাটতি দেখা দেওয়া এসব মারণাস্ত্রের মধ্যে মার্কিন পদাতিক বাহিনীর সবচেয়ে কার্যকর ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম’ (ATACMS) এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ (PrSM) অন্যতম। মূলত বিমানবাহিনীর পাইলটদের আকাশপথের ঝুঁকি এড়াতে দূরপাল্লার এই ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ওপর অত্যাধিক নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল। ফলে কৌশলগত দূরপাল্লার অস্ত্র ফুরিয়ে আসায় ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের মতো অন্যান্য বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক যুদ্ধপ্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সাথে সমন্বয় করে ইরানে যৌথ সামরিক আগ্রাসন শুরু করেন। প্রাথমিক বিশ্লেষণে যুদ্ধটি স্বল্পস্থায়ী হবে বলে ধরে নেওয়া হলেও সংঘাত ৫ মাসে গড়ালে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সিএসআইএস (CSIS)-এর তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতে থাকা প্রায় ৬৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং অন্তত ৩৮ শতাংশ ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। যদিও পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের তরফে দাবি করা হয়েছে যে বিশ্বজুড়ে নিজেদের সার্বিক জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় মার্কিন বাহিনীর কাছে এখনো পর্যাপ্ত এবং গভীর সামরিক সক্ষমতা বিদ্যমান রয়েছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে অস্ত্রাগারের ভয়াবহ ঘাটতির কারণেই সামরিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানো থেকে বর্তমানে বিরত থাকছেন।


















