কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত পেট্রোবাংলার ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের পর গত এক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দিয়েছে। দুর্ঘটনায় টার্মিনালটির একটি বয়লার ও গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে দৈনিক ৪১০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে দেশে মোট সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ২২০ কোটি ঘনফুটে।
ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ টার্মিনালটি পুরোপুরি মেরামত করে স্বাভাবিক সরবরাহে ফিরতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
গ্যাস সংকটের সার্বিক চিত্র ও বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব নিচে তুলে ধরা হলো:
- আবাসিক খাতে চুলা বন্ধ ও বাড়তি খরচ: রাজধানীর মগবাজার, মিরপুর, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, রামপুরা ও বাড্ডাসহ অধিকাংশ এলাকায় দিনের বেলা পাইপলাইনের গ্যাস একেবারে থাকছে না। গৃহস্থালি সামলাতে বাধ্য হয়ে মানুষ এলপিজি সিলিন্ডার, বৈদ্যুতিক চুলা ও কেনা খাবারের ওপর নির্ভর করছে, যা সীমিত আয়ের মানুষের বাড়তি আর্থিক সামাজিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- শিল্প উৎপাদনে ধস: গাজীপুর ও নারায়াণগঞ্জের তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার ও টেক্সটাইল কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা কমে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ও এলপিজি ব্যবহারে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে, যা যথাসময়ে তৈরি পণ্য রপ্তানিতে বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
- সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি: গ্যাস লাইনে নির্ধারিত ১৫ পিএসআই (PSI) চাপের জায়গায় চাপ কমে ৪-৫ পিএসআই-এ নেমে আসায় রাজধানীসহ দেশজুড়ে ফিলিং স্টেশনগুলো ঘণ্টা পর ঘণ্টা বন্ধ রাখা হচ্ছে। খোলা থাকা স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না পরিবহনচালকেরা।
- বিদ্যুৎ খাতে প্রভাব: বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ১,০০০ থেকে ১,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি ও ছুটির কারণে আপাতত বড় লোডশেডিং না হলেও তাপমাত্রা ও গ্যাসের চাহিদা বাড়লে লোডশেডিং পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আগত প্রকৌশলীরা বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের মেরামতের কাজ করছেন। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, আগামী ৫ থেকে ৮ দিনের মধ্যে একটি বয়লার চালু করা সম্ভব হলে অন্তত ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।


















