শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সাম্প্রতিক তদন্তে রাজধানীর মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ এবং নরসিংদীর মনোহরদীর আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসায় মোট ১০ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক অনিয়ম ও চরম প্রশাসনিক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। সরেজমিন পরিদর্শনের পর ডিআইএ তিনটি পৃথক প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে জালিয়াতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আত্মসাৎ করা অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার জোর সুপারিশ করেছে।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক দুর্নীতির বিস্তারিত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
- মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজ (অনিয়ম ৫ কোটি ১০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা): কলেজটির বর্তমান অধ্যক্ষ মো. আমিনুল হকের নিয়োগ অভিজ্ঞতা সনদে গুরুতর অসঙ্গতি ও জালিয়াতি থাকায় বাতিলযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া বিগত আট বছরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশন ফি বাবদ ৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়, কর ফাঁকি, বিধিবহির্ভূত অতিরিক্ত বেতন প্রদান এবং কোনো প্রকার লগবই ছাড়াই মাইক্রোবাস ব্যবহার করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রমাণ পেয়েছে ডিআইএ।
- ঢাকা সিটি কলেজ (অনিয়ম ৪ কোটি টাকা): অডিট প্রতিবেদনে দেখা যায়, গভর্নিং বডির অনুমোদন ও প্রতিনিধি ছাড়াই ১৯৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০৫ জনের নিয়োগে বড় ধরনের জালিয়াতি হয়েছে। পাশাপাশি ৭২ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নগদে খরচ, উৎসে ভ্যাট-কর ফাঁকি দেওয়া এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে গভর্নিং বডির সদস্যদের প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা সিটিং অ্যালাউন্স দেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
- আছাদনগর ফাজিল মাদ্রাসা (অনিয়ম ১ কোটি টাকা): জাল এনটিআরসিএ নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়া ও অবৈধ নিয়োগ প্রাপ্তির অভিযোগে পাঁচজন শিক্ষকসহ মোট সাতজন শিক্ষক-কর্মচারীর কাছ থেকে ৮৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া অনিয়মের মাধ্যমে ভ্যাট-কর ফাঁকি দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের ১.৮২ একর জমি বেহাত হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
ডিআইএ-র পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকেই নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















